আমার ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স হয়েছে। জীবনে যমুনার এমন তাণ্ডব কখনো দেখিনি। আমার বসতভিটাসহ গত ১৫ দিনে এই এলাকার পাঁচ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারের একাংশ নদীর গর্ভে চলে গেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দেওয়ানগঞ্জের চিকাজানী ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামের আব্দুল সাফি(৬০)। তার কথা শেষ না হতেই বসতভিটা হারানো জবির উদ্দিন, মালেকা, ছালাম, আকরামসহ আরও অনেকেই বলেন, আমাদের যা কিছু ছিল সব নদী খেয়ে ফেলেছে। যেভাবে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে তাতে আগামী এক মাসের মধ্যেই নৌ-থানাসহ এই এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে দেখা যায়, নদী ভাঙ্গনের তাণ্ডব। এক দিকে নদীতে চলে যাচ্ছে বসতিভিটা অন্য দিকে ওই এলাকার মানুষ সব কিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে শত শত পরিবার।
জানা গেছে, খোলাবড়ি নামের এ গ্রামে দুই হাজার পরিবার বাস করতো। যেখানে ছিল খোলাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক ও খোলাবাড়ি হাইস্কুল এবং খোলাবাড়ি বাজার। যেখানে এ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষরা তাদের ছেলে মেয়েদের পড়ালেখার জন্য ও বাজারে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনা করে জীবিকা নির্বাহ করত।
পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত ১৫ দিনে ওই এলাকার ৫০০ শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাজারের একাংশ যনুমার পেটে চলে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সদ্য নির্মিত নৌ-থানা,খোলাবাড়ি-দেওয়ানগঞ্জ পাকাসড়ক এবং আশপাশের এলাকা।
বসতভিটা হারানো খোলা নিচে আশ্রয় নেওয়া গোলাম মোস্তফার স্ত্রী ওজুফা বেগম, শহিদুল্লাহসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, সবকিছু হারিয়ে আমরা রাস্তায় ঠাঁই নিয়েছি, ত্রাণ তো দূরের কথা এখন পযর্ন্ত আমাদের কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি।
খোলাবাড়ি হাইস্কুলের জামান, করিম, শেফালীসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ১৫ দিন আগেও আমরা ক্লাস করেছি। আর এখন আমাদের স্কুলের কোনো চিহৃও নেই সেখানে শুধু পানি আর পানি। আশপাশের ছয়- সাত কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো বিদ্যালয় নেই। এ নিয়ে খুব চিন্তায় রয়েছি। আমরা এখন কোথায় লেখাপড়া করবো।
খোলাবাড়ি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম জানান, স্কুলের ভবন গুলো রাতে রাতেই দেবে গেছে। আমরা কিছুই উদ্ধার করতে পারি নাই।আমরা খুবই হতশায় রয়েছি।
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুলাইমান হোসেন জানান, চিকাজানি ইউনিয়নের খোলাবাড়ি ও বরখাল গ্রামের ১৫ দিনে প্রাথমিক ও হাইস্কুল এবং মসজিদসহ এলাকার ৫ শতাধিক পরিবারের বাড়ি নদীতে চলে গেছে। সেগুলো তালিকা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং হুমকির মুকে রয়েছে বাজারের বাকি অংশ ও নৌ-থানা। এগুলো রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী জানান, খোলাবাড়ি ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগের ডাম্পিং চলছে। পানি কমে গেলে সেখানে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প নেওয়া হবে।





