অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন

  • বগুড়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১০ নভেম্বর, ২০২১

বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে নেয়ার ট্রলি ভাড়া (অবৈধ) চাহিদার চেয়ে কম দেয়ায় বিকাশ চন্দ্র (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। দাবিকৃত ভাড়ার ৫০ টাকা কম দিয়েছিল তার পরিবার।

মঙ্গলবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিকাশ আহত হয়েছিলেন। রাতে জরুরি বিভাগে ভর্তির পর সেখান থেকে ওয়ার্ডে নেয়ার পর অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেয়ায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ ঘটনায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুধবার ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

হাসপাতালের অনিয়মিত কর্মচারী আসাদুজ্জামন ধলু ওই রোগীকে জরুরি বিভাগ থেকে ট্রলিতে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার পরে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে সে পলাতক রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই কর্মচারী ক্লিনার পদে দিনমজুর ভিত্তিক কর্মরত ছিল।

জানা যায়, গাইবন্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী এলাকার বিশু চন্দ্র কর্মকারের ছেলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে আসছিল। সোমবার রাত ৮ টায় বাইসাইকেল নিয়ে যাওয়ার পথে সাঘাটায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। প্রথমে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে রাত ১০ টার দিকে বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ার কারণে জরুরী বিভাগ থেকেই তাকে অক্সিজেন দেয়া শুরু হয়। জরুরি বিভাগ থেকে হাসপাতালের তিন তলায় নিউরো সার্জারী ইউনিটে নেয়ার জন্য ট্রলি আনা হয়। হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান ধুলু ট্রলিতে বিকাশকে ওয়ার্ডে নেয়ার জন্য ২শ টাকা চান। ওয়ার্ডে নিয়ে বিছানায় রাখার পর হাসপাতালের ওই কর্মচারী বিকাশের পিতা বিশু চন্দ্রের নিকট টাকা চাইলে তিনি ১৫০ টাকা দিয়ে জানান, তিনি গরীব তার নিকট আর কোন টাকা নেই। কিন্তু হাসপাতালের ওই কর্মচারী বিয়য়টি মানতে রাজি হয়নি। ট্রলি ভাড়া কম দেয়ায় ওই কর্মচারী এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বিকাশের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে। এর কিছু সময়ের মধ্যেই বিকাশ মারা যায়।

তার বাবা বিশু জানান, তারা দরিদ্র, তার নিকট ১৫০ টাকাই ছিল। তিনি অনুরোধ করেছিলেন। তার পরেও তার ছেলের মাস্ক খুলে নেয়া হয়। এ কারণেই তার ছেলে মারা যান বলে জানান।
এ ঘটনার পরে হাসপাতালের অন্য লোকজনসহ বিকাশের পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ি ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মহসীনসহ অন্যান্য কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে যান। তবে ওই ঘটনার পর পরেই হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান ধুলু পালিয়ে যায়।

হাসপাতালের উপ পরিচালক ডাঃ ওয়াদুদ জানিয়েছেন, বুধবার ঘটনা তদন্তে ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মনির আলী আকন্দকে প্রধান করে ৪ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ইনডোর মিডিক্যাল অফিসার ডা. মাহবুব আজাদ, স্টাফ নার্স আব্দুল বারেক ও ওয়ার্ড মাস্টার তৈয়বুর রহমান।

বগুড়া সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানিয়েছেন, স্কুল ছাত্র বিকাশের পরিবার মামলা করতে অনীহা জানালেও তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগীবহনের ট্রলি বা হুইলচেয়ার ভাড়া নেয়ার ঘটনা নতুন নয়। হাসপাতালে রোগী আসলেই এক শ্রেণীর কর্মচারী ট্রলি ও হুইল চেয়ারের ভাড়া বাবদ ২/৩শ টাকা নেয়। টাকা না দিলে রোগী বহনের জন্য কিছু পাওয়া যায় না। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও একটি চক্রের এই কর্মকাণ্ড থেমে নেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads