ফুলের সুবাস নেই, ধূপের সুগন্ধ নেই, বর্ণাঢ্য যাত্রা নেই… নেই কোনো জনসমাগমও। ২০২০ সালের ২৫শে বৈশাখের সকাল মন খারাপ করা এক সকাল। শয়নে, স্বপনে, জাগরণে যিনি সর্বদা বিরাজমান, যাঁর গান জীবনে চলার পাথেয়, তাঁকে আজ ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে বরণ করলো বাঙালি।
বিশ্ব মহামারী কোভিড-১৯ আমাদের জীবনশৈলী অনেকটাই বদলে দিয়েছে। পর্যাপ্তি ও প্রাপ্তির মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সীমারেখা বিদ্যমান। সেই সূক্ষ্ম সীমারেখা মানুষ নতুন করে ভাবতে শিখেছে। তাই জীবনের বহুল প্রচলিত সংজ্ঞাও বদলে গেছে।
তবে জোড়াসাঁকো আজকে জনমানব শূন্য হলেও, রবি ঠাকুরের ব্যাপ্তি এতটাই বিশাল যে, তাঁকে কোনো বিশেষ দিন বা স্থানে সীমাবদ্ধ রাখার অবকাশ নেই। সেইজন্য আজকেও প্রতি বছরের মতো ফেসবুক বা হোয়াটস আপ এ ছোট, বড়, মাঝবয়সী সকলে নির্দ্বিধায়, নির্বিশেষে কবি গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন চোখে পড়লো তাঁরই সৃষ্টির নিরিখে।
তাঁকে স্মরণে এতটুকু কার্পণ্য নেই। তিনি যে বটবৃক্ষ। তাই, এই কবিমাসে ওঁনার অমোঘ সৃষ্টির বলে বলীয়ান হয়ে আমাদের সম্মিলিত প্রার্থনা ঈশ্বরের উদ্দেশে খুব শীঘ্রই যেন আমরা মহামারীর এই করাল গ্রাস থেকে মুক্তি লাভ করি। সঞ্জীবনী সুধা পান করুক সমগ্র মানবসমাজ এবং তার সাথেই জ্ঞানচক্ষু উম্মিলিত হোক …
এ পৃথিবী শুধু আমাদেরই বাসভূমি নয়, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জীবের সম অধিকার এই বিশ্ব চরাচরে। প্রযুক্তির নাগপাশে বিদ্ধ হয়ে, তার অপব্যবহারে নিজেদের শিকড় হারিয়ে ফেলার এই হয়তো পরিণতি। ফলস্বরূপ প্রকৃতি তার নিজ অবস্থানে অনড় থাকার জন্য বদ্ধপরিকর। তবে কি কলিযুগের সমাপ্তি এখানেই? ভাঙাগড়ার খেলায় আবার নতুন করে সত্যযুগের শুভারাম্ভ কি শীঘ্রই? এ উত্তর তো অজানা।
‘সঙ্কল্পেই সিদ্ধলাভ’… এই ইতিবাচক মনোভাবের আশ্রয়ে দৃঢ় চিত্ত ও উদাত্ত কণ্ঠস্বরে মানবসমাজ গেয়ে উঠুক ‘এসো এসো সেই নবসৃষ্টির কবি, নবজাগরণযুগ প্রভাতের রবি… ’
তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। ২৫ শে বৈশাখ বারবার আসবে এবং বাঙালির মানসপটে নামাঙ্কিত থাকবে এই কবিমাস। কবির ভাষায়… “আজি হতে শতবর্ষ পরে
কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি
কৌতূহলভরে…”।
ত্রয়ী মুখোপাধ্যায়





