অর্ধনির্মিত সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

অর্ধনির্মিত সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

  • মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৯ নভেম্বর, ২০২১

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করে কোনো ধরনের সাড়া না পাওয়ায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে অর্ধ কোটি টাকার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয় গত দু’বছর আগে। সবার সহযোগিতায় সেতু নির্মাণের কাজ চলে খুব ভালোভাবেই। কিন্তু সেতুটির প্রায় ৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও চাহিদানুযায়ী টাকা না থাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সেতুর পিলারকে কাজে লাগিয়ে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে বানানো সাঁকো দিয়েই ঝুকি নিয়ে চলাচল করছেন দশ গ্রামের মানুষ।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের মীর দেওহাটা গ্রামটি লৌহজং নদী দ্বারা বিভক্ত। গ্রামের দক্ষিণ পাড়ের মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে খেয়া নৌকাযোগে নদী পার হয়ে উপজেলা সদর, দেওহাটা বাজার, স্কুল-কলেজ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে থাকে। এছাড়াও অপর পাড়ের মানুষ নদী পার হয়ে তাদের আবাদি জমির ফসল আনা-নেওয়া করেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও গ্রামবাসীর প্রয়োজনীয় সেতুটির দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া না দেয়ায় দু’বছর আগে নিজেরাই স্ব-উদ্যোগে টাকা উঠিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেন। যার ৪০ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে মোট ৮টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট ও প্রস্থ ১১ ফুট। যা নির্মিত হলে অন্ততপক্ষে দশগ্রামের লাখো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা শরীফ মিয়া জানান, জন্মের পর থেকেই নৌকায় পার হয়ে বাজার ঘাটে যাওয়া আসা করি। কিছু দিন আগে এলাকাবাসী সবার সাথে কথা বলে আমরা একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেই, পরে এলাকাবাসী সবাই মিলে কিছু টাকা তুলে কাজ শুরু করি। ২০ লক্ষ টাকার মতো কাজ করা হলেও সেতু সম্পন্ন না হওয়ায় যেনো এটি এখন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যখন পারাপার হতে হয় তখন মনে হয় এই বুঝি পরে গেলাম।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বাংলাদেশের খবরের এই প্রতিবেদককে জানান, এতো দিনেও সেতু না হওয়া একটি দুঃখজনক ঘটনা। ওই স্থান পরিদর্শন করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads