নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীতে একটি নৌকা ডুবে গেলেও অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো শিশুসহ প্রায় ৩০ যাত্রী। সোমবার দুপুরে পৌর শহরের শিবগঞ্জ ঘাটে যাত্রীবাহী নৌকায় সাথে বালু বোঝাই নৌকা সংঘর্ষে হলে ডুবে যায় একটি নৌকা । এ ঘটনায় সকল যাত্রী নিরাপদে সাতেঁ পাড়ে উঠলেও নিখোঁজ রয়েছে মোটরসাইকেল ও নৌকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে শিবগঞ্জ ফেরি ঘাটে প্রায় ৩০ জন যাত্রী ও দুইটি মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে একটি নৌকা ছেড়ে যায়। এই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বালু বোঝাই আরেকটি নৌকা সজোরে যাত্রীবাহী নৌকাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তাৎক্ষণিক নৌকাতে থাকা সকল যাত্রী, মোটরসাইকেল পানিতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত যাত্রীদের উদ্ধার পারলেও নৌকা ও মোটরসাইকেলগুলো পানিতে তলিয়ে যায় । তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন সকল যাত্রী নিরাপদে পাড়ে উঠে আসায় কোনো হতাহত বা নিখোঁজের ঘটনা ঘটেনি। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর ছিলে পুলিশ এসে ঘাতক নৌকা ও চালককে আটক করেছে।
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ খেয়া পারাপারে কোনো নিয়মনীতি মানে না ঘাট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাঝিরা। প্রতিনিয়তই নৌকাগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে পারাপারের করায় প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। তার ওপর বর্ষার এই মৌসুমে সোমেশ্বরী নদী প্রবল খরস্রোতা ও গভীর থাকায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই পার হতে হয় বলে জানান যাত্রীরা ।
অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও। জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছেন নৌকা চালকরা। তার উপর শিশু ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ভাড়া আদায় করে তারা। ঘাটে যাত্রী উঠা নামার জায়গাগুলোও অবস্থাও খুব নাজুক।
পর্যটন নগরী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ নদী পারাপার আর যাত্রী নামা ওঠা জায়গাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয় পর্যটকদের। এ বিষয়ে বারবার ঘাট পরিচালনা কমিটিকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো কর্ণপাত করে না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের ।
স্থানীয় এক যাত্রী জানান, সোমেশ্বরী নদীতে কোনো সেতু না থাকায় পৌরসভার শিবগঞ্জ, ডাকুমারা ও কুল্লাগড়া, গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হাজারো যাত্রীর উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগে এক মাত্র মাধ্যম নৌকা। প্রতিদিনই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে পারাপার হয়ে আসছে। মানুষের যাতায়াতের জন্য সোমেশ্বরী নদীতে প্রতিবছর জেলা প্রশাসক পাঁচটি খেয়াঘাটের ইজারা দিয়ে থাকেন। প্রশাসন এ ঘাটগুলোতে যেসব নিয়ম-নীতি মেনে চলার বিধান দেন তার কোনোটি নৌকা চালকরা। উল্টো প্রতিটি ঘাটেই সিন্ডিকেট করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন ইজারাদাররা। যাত্রী পরিবহনকারী নৌকা গুলোতে নেই নিরাপত্তা সামগ্রী কিংবা লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও। ফলে নৌকাডুবি কোনো ঘটনা ঘটলেই সাঁতার না জানা থাকলে নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করছেন যাত্রীরা ।
এভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজাানা খানম জানান, সোমেশ্বরী নদীতে যাত্রী পারাপারের ব্যবহৃত নৌকাগুলোতে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করে তার জন্য প্রতিনিয়ত নৌকা চালকদের আমরা দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছি। কিন্তু তারপরও কিছু মুনাফালোভী চালক নৌকা গুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করে আসছে। আমরা অচিরেই এই অনিয়মের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবো যাতে করে কোনো নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করতে না পারে ।





