লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ছয় কোটি টাকা ব্যায়ে আইসিইউ বেড ও আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে। ফলে এ জেলার মুমূর্ষু করোনা ও অন্যান্য রোগীকে চিকিৎসার আর রংপুর কিংবা ঢাকায় যেতে হবে না।
জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা লালমনিরহাট জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সরকার জেলা সদর হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করতে নতুন ভবন নির্মান কাজ শুরু করে। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩২ কোটি টাকা। নির্মাণকাজটি বাস্তবায়ন করছে লালমনিরহাট গলপূর্ত বিভাগ। সাম্প্রতিক সময় সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ ইউনিট জরুরি। কিন্তু এ হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা নেই। তাই জেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার ১০ শয্যার আইসিইউ ও ২০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট চালুর জন্য আলাদা আরো ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। আইসিইউ ও আইসোলেশন ইউনিট নির্মানের জন্য দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত রংপুর অঞ্চল। নির্মাণ কাজটি পায় সাজিন এন্টারপ্রাইজ (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে ভবন নির্মাণকাজের মেয়াদ দুই দফায় বাড়ালেও নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, আইসিইউ বেড ও আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ কাজের বরাদ্দকৃত অর্থ অনুমোদন হতে সময় লেগেছে দেড় বছর। তাই নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে মূল ভবন নির্মাণ কাজের মেয়াদ দুই দফায় বাড়ানো হলেও ৯৫ শতাংশ কাজ সমাপ্ত হয়েছে। চলতি বছরেই কাজ শেষ হবে এবং আগামী বছরের শুরুর দিকেই হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। আর আইসিইউ বেড ও আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণকাজও শেষের দিকে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই কাজ শেষ হবে বলেও তিনি জানান।
লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের (সদ্য অবসরপ্রাপ্ত) তত্ত্বাবধায়ক ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে হাসপাতালের ভবন সংকটের অবসান হবে। আর আইসিইউ বেড ও আইসোলেশন ইউনিট নির্মাণ হলে জেলার মুমূর্ষু করোনা ও অন্যান্য রোগীকে রংপুর কিংবা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হবে না। রোগীদের চিকিৎসা দিতেই বেগ পেতে হবে না।





