জাতীয়

আকাশবাণীতে আত্মসমর্পণের আহ্বান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

একদিকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ভুটান ও ভারতের স্বীকৃতি, অন্যদিকে মিত্রবাহিনীর আক্রমণে তখন হানাদার বাহিনী দিশেহারা। পাকিস্তানিরা বুঝে গেছে তাদের পরাজয় কেবলই সময়ের ব্যাপার। এদিন যুদ্ধ পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে জেনারেল নিয়াজি গোপনবার্তা পাঠিয়েছিলেন রাওয়ালপিন্ডির হেড কোয়ার্টারে। সেখানে তিনি লেখেন, গত ১৭ দিনে যেসব খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে, তাতে জনবল ও সম্পদের বিচারে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে গেছে। রাজাকারদের অস্ত্রসহ শটকে পড়ার সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের নিজেদের ট্যাংক, ভারী কামান ও বিমান সমর্থন না থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। এ বার্তা পেয়ে হেড কোয়ার্টার থেকে সম্মুখ সমরের সৈন্যদের পিছিয়ে এনে প্রতিরোধ ঘাঁটিতে সমবেত করার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।

কিন্তু এদিন ১০টার দিকে ভারতীয় বেতার কেন্দ্র আকাশবাণী থেকে হিন্দি, উর্দু ও পশতু ভাষায় জেনারেল মানেকশ বাংলাদেশে দখলদার বাহিনীকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বাঁচার কোনো পথ নেই। মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য তোমাদের ঘিরে রেখেছে। তোমরা যে নিষ্ঠুর আচরণ করেছ, তারা তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই তোমরা আত্মসমর্পণ করো।’

তবে ৭ ডিসেম্বরের ওই গোপন বার্তা পেয়ে পাকিস্তান সরকারের মনোবল একেবারেই ভেঙে যায়। তারা কোনো না কোনোভাবে ‍ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজতে থাকে। কিন্তু ততক্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়েছে। তাদের মনোবলও তখন অনেক চাঙ্গা। তদুপরি ভুটান ও ভারতের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে মুক্তির দিন যে খুব নিকটে তা বুঝতে পেরেছিল মুক্তিযোদ্ধারা। আর তাই ৭ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী ক্ষণ গণনা শুরু হয়, কখন পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পণ করবে। তবে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে, এ বিশ্বাস জন্মেছিল মুক্তিযোদ্ধা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads