আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ উধাও

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

গ্রাহকসেবা গিলে খাচ্ছে নিম্নমানের পিন ইনসুলেটর

আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ উধাও

  • মোস্তফা কামাল নান্নু, টাঙ্গাইল
  • প্রকাশিত ১৪ অগাস্ট, ২০২১

বিদ্যুতের ১১ কেভি (পিডিবি) লাইনে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কাজে সম্প্রতি যে পিন ইনসুলেটর ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুবই নিম্নমানের। ফলে একদিকে যেমন গ্রাহক ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছে তোপের মুখে। দিনরাত পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তারা।

টাঙ্গাইল জেলায় আকাশে মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে হচ্ছে, এমনকি অতি তাপমাত্রায়ও বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। বর্তমান সময়ে ব্যবহূত পিন ইনসুলেটর এতটাই নিম্নমানের যে, একটু বৃষ্টি হলেই ফেটে যায়, আবার তাপমাত্রা বাড়লেও ফেটে যায়। তখন উপসহকারী প্রকৌশলী (ফিডার ইনচার্জ), লাইনম্যান ও তার সহযোগীরা, তাদের এই জেলার বিদ্যুৎ সংযুক্ত এলাকাগুলোতে চব্বিশ ঘণ্টা সার্ভিস দিয়েও, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে চবিবশ ঘণ্টার স্থলে, গড়ে প্রতিদিন প্রায় আট ঘণ্টা এ সেবা থেকে বঞ্চিত এ জেলার গ্রাহকরা।

মাঠ পর্যায়ে কর্মরত একজন লাইনম্যান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ভাই ছোট চাকরি করি, তার নাম ব্যবহার না করার শর্তে বলেন, সম্প্রতি সাপ্লাইকৃত এই পিন ইনসুলেটর, যতদিন পরিবর্তন বা মান উন্নয়ন সম্ভব না হবে, ততোদিন পর্যন্ত আমাদের ঘুম হারাম। অন্যদিকে আমরা যতই পরিশ্রম করি, গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না। পিন ইনসুলেটর যথেষ্ট সরবারহ থাকলেও, যখন এটি কোথাও ফেটে যায়, তখন ওই এলাকার জনসাধারণের কেউ ফোন করলে আমার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করি।

এক দিকে বিদ্যুৎ কখন চলে যাবে এ বিষয়ের চেয়ে, কখন আসবে সে বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত অপেক্ষা করতে হয় টাঙ্গাইলবাসীকে। আবার এই ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া আসার কারণে দফায় দফায় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী জ্বলে যাচ্ছে।

এদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রিপেইড মিটারও জ্বলে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। প্রিপেইড মিটার জ্বলে গেলে গ্রাহকদেরই গুনতে হচ্ছে মাসুল। একেকটা প্রিপেইড মিটার পুনঃসংযোগ নিতে গুনতে হচ্ছে ছয় থেকে ১০ হাজার টাকা। আবার প্রিপেইড মিটার জ্বলার অভিযোগে, গ্রাহককে দায়ী করে অতিরিক্ত জরিমানা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। এদিকে পর্যাপ্ত মিটার সংগ্রহে বা মজুত না থাকায় অধিক মূল্যে বাইরের খুচরা ইলেকট্রিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে।

টাঙ্গাইলে তিনটি বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ শাখা গ্রাহকসেবায় কাজ করে যাচ্ছে। তিনটি শাখারই নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে পিন ইনসুলেটরের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এবিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন প্রমানিক বলেন, পিন ইনসুলেটর নিয়ে কিছুটা সমস্যা থাকলেও, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সমস্যা হওয়ার কথা না।

অতি নিম্নমানের পিন ইনসুলেটর আমদানির বিষয়ে এবং এইযে ঘন ঘন পিন ইনসুলেটর ফেটে গ্রাহক হয়রানি হচ্ছে-তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, বুয়েট টেস্টের পর প্রতিটা সামগ্রী মাঠ পর্যায়ে দেওয়া হয়। নিম্নমানের পিন ইনসুলেটর সাপ্লাই দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সমস্যা হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads