ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রংধনুর মত সাতরঙের মুরগির বাচ্চা। পৌর শহরসহ উপজেলার সর্বত্র হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে ওইসব নাদুস-নুদুস ছোট ছোট গোলাপি, লাল, নীল ও সবুজ বাহারী রঙের মুরগির বাচ্চা। ওইসব ব্যতিক্রমী রঙিন মুরগির বাচ্চা দেখেই পছন্দ হওয়ায় ক্রয় করছেন অনেকেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, লাল, নীল সবুজের বাহারি রঙের ওইসব মুরগির বাচ্চা আসলে কোন মুরগির নতুন কোনো জাত নয়। সাধারণ লেয়ার জাতেরই মুরগি। লেয়ার মুরগির সাদা বাচ্চা গুলোকে বিশেষ কায়দায় আকর্ষণীয় করে তুলতেই এমন রং করা হয়েছে। ওইসব মুরগির বাচ্চাগুলো আকর্ষণীয় মানের হওয়ায় কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে ওইসব বাচ্চাগুলো শিশুদের জন্য কেনা হচ্ছে বেশী। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কোথাও এভাবে মুরগির বাচ্চার রঙ করার খবর পাওয়া যায়নি।
মূলত নরসিংদী ও ঢাকায় মুরগির বাচ্চার রঙ হচ্ছে। ওইসব জায়গা থেকে ক্রয় করে বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় মুরগির বাচ্চা বিক্রেতা ইমরান হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, তিনি নরসিংদী থেকে ওইসব রঙ ব্যবহার করা মুরগির বাচ্চাগুলো ক্রয় করে বিক্রি করছেন। তবে বাচ্চাগুলোর মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কম ও লাভ হয় অধিক হয় বলে জানায়। তিনি গত ১৫ দিন ধরে বাজারে ওইসব মুরগির বাচ্চা বিক্রি করছেন।
সে আরও জানায়, স্বাভাবিক মুরগির বাচ্চার মতোই এদের খাবার। প্রতিটি বাচ্চার বিক্রি করছেন ১০ টাকা দামে। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয় বলেও জানান তিনি। বিক্রিতে গোলাপি, লাল, সবুজ ও নীল রঙের বাচ্চার চাহিদা রয়েছে বেশি। বাচ্চাগুলো সৌখিন ব্যক্তি ও শিশুদের কাছে খুবই পছন্দের। বাচ্চাগুলোর গায়ের রঙ নষ্ট হয় কি না এ বিষয়ে কিছুই বলেন নি।
সরেজমিনে পৌর শহরের সড়ক বাজার গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন বিক্রেতা বাহারি রঙের মুরগির বাচ্চা নিয়ে বসে আছেন । ওই সব মুরগির বাচ্চাগুলো দেখতে ছোট বড় সবাই ভীড় করছেন। বিক্রেতারা সাধারণ লোকজনকে আকৃষ্ট করতে নানা ভাবে বাজারে প্রদর্শন করছেন।
পৌর শহরের রাধানগর এলাকার লিপি আক্তার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কেনাকাটা করতে ছেলে নিয়ে সড়ক বাজারে এসেছিলাম। হঠাৎ ছেলের নজর পড়ে ওই মুরগির বাচ্চার দিকে। এর আগে ছেলে এমন সুন্দর মুরগির বাচ্চা না দেখায় তিনি ছেলের জন্য ১০টি বাচ্চা ক্রয় করেছেন। ছেলে বাচ্চা পেয়ে খুবই খুশি।
আজমপুর এলাকার সোহাগ বলেন, বিভিন্ন রঙেরএসব মুরগির বাচ্চা আগে কখনো দেখিনি। সত্যি বাচ্চাগুলো অনেক নাদুস-নুদুস হওয়ায় খুবই ভালো বড়ই লাগছে । তাই ছেলে ও মেয়ের জন্য ১০টি বাচ্চা কিনলাম। এগুলো পেলে তারা অনেক খুশি হবে। সেই সাথে তাদের কাছ থেকে ছোট একটি (ড্রপ) কেনা হয় যাতে বাচ্চাগুলোর কোন ক্ষতি না হয়।
দেবগ্রাম এলাকার ফিরোজ মিয়া বলেন, গত দুই দিন ধরে ছেলে এই বাচ্চা কেনার জন্য বলছে। সময় সুযোগ না হওয়ায় কেনা হয়নি। তাই ছেলেকে নিয়ে ১৫টি বাচ্চা কেনা হয়। সাংবাদিক বিশ্বজিৎ পাল বাবু বলেন, মুরগির বাচ্চা সুন্দর দেখে ছেলের জন্য ৬টি কেনা হয়। ছেলে বাচ্চা পেয়ে খুবই খুশি।
স্থানীয় মুরগি বিক্রেতা লিয়াকত বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দিন দিন এলাকায় ওইসব মুরগির বাচ্চাগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাজারসহ গ্রামে এসব মুরগির বাচ্চার ভালো চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ৩০০-৪০০পিচ মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয়। বিক্রিতে ভালো লাভ হচ্ছে। তিনি আরও বলেন এগুলো সহজেই মরে না এবং ক্ষতির আশঙ্কাও কম রয়েছে।





