সারা দেশ

আখাউড়ায় জমজমাট সাপ্তাহিক সবুজের হাট

  • কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
  • প্রকাশিত ৪ মার্চ, ২০২২

দুপুর থেকেই কেউ ভ্যান গাড়ি কেউ বা অটো রিকশা নিয়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধিসহ দেশী বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিক্রি করতে ছুটে চলছেন। কারণ দুপুরের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসায় শুরু হয় কেনা কাটা। তাই দেশী বিদেশী নানা প্রজাতির চারা নিয়ে হাজির হন বিক্রেতারা। তারা যেন এক প্রকার ব্যস্ত সময় পার করেন।

এমন দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুর শাহপীর কল্লা শহীদ মাজার এলাকায়। এখানে মাজার সংলগ্ন মাঠে প্রতি সাপ্তাহে এক দিন সবুজের হাট বসছে। ইতিমধ্যে জমে উঠেছে এই সবুজের হাট । প্রতি বৃহস্পতিবার নার্সারি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরতি হয়ে ওঠে। দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পযর্ন্ত চলে এই হাটে বেচা কেনা। মৌসুম গাছের চারা ছাড়াও এখানে ফলদ, বনজ এবং ঔষধি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি জাতের শৌখিন গাছের চারা বিক্রি হয়। পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নানা প্রকারের সবজির চারাও। তবে এ মৌসুমটা গাছের চারা লাগানোর সময় না হলেও যারা ফল গাছ রোপন, সবজি আবাদ কিংবা ছাদ কৃষি করছেন তারা ক্রয় করছেন নানা সবজি, ফল, ফুল সহ নানা প্রজাতির চারা। এখানে পাওয়া যাচ্ছে কমলা, মাল্টা, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, নারিকেল, আপেল, পেয়ারা, ডালিম, সরফা, লটকন, গোলাপজাম, আতাফল, জাম্বুরা, লেবু, পেপে, মরিচ, বেগুন, টমেটো, গাদা ফুল গোলাপ,জবা, ডালিয়া, সূর্য্যমুখি, হাসনাহেনা,বকুল, কৃষ্ণচুড়া, রজনীগন্ধা,কামিনি এবং বেলজিয়াম,আকাশি, মেহগনি,শিলকড়ই ,জাম,কাঠালসহ নানা প্রজাতির দেশী বিদেশী গাছের চারা ।

এদিকে সবুজ এই হাটে ঘুরে দেখা গেছে, এখানে ফলদ , বনজ ও ঔষধিসহ নানা প্রজাতির গাছের চারা নিচে ৩০ টাকা থেকে উপরে ৫০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজি চারা কিছুটা কম রয়েছে। নার্সারি লোকজনরা জানায় মূলত আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র এ তিন মাস গাছের চারা বিক্রি ও রোপণের উপযুক্ত সময় হলে ও মৌসুম অনুযায়ী তারা সারা বছরই নানা প্রজাতির চারা বিক্রি করছেন । এখানে সাপ্তাহিক হাট বসায় নার্সারি চারা বিক্রিতে বাড়তি সুযোগ তৈরী হয়েছে। এই মাজার শরীফে প্রতি সাপ্তাহে বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তর থেকে নেক লোকজন আসছেন। এদের মধ্যে শৌখিন লোকজনরা নানা প্রজাতির চারা ক্রয় করছেন বলে জানায়।

সরেজমিনে খড়মপুর মাজার সংলগ্ন মাঠে সাপ্তাহিক হাটে গিয়ে দেখা যায় , পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নার্সারি মালিকরা ভ্যান গাড়ি ও অটো রিকশা যোগে ফলদ , বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা এই হাটে নিয়ে এসেছেন।

দুপুরের পর থেকেই বৃক্ষ প্রেমিদের যেন ভিড় বাড়েত থাকে। বর্তমানে এই হাটে মাল্টা, আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, নারিকেল, আপেল, পেয়ারা, ডালিম, সরফা, লটকন, গোলাপজাম, আতাফল, জাম্বুরা, লেবু, পেপে, মরিচ, বেগুন, টমেটো, গাদা ফুল গোলাপ,জবা, ডালিয়া, সূর্য্যমুখি,হাসনাহেনা,বকুল, কৃষ্ণচুড়া, রজনীগন্ধা,কামিনি এবং বেলজিয়াম,আকাশি, মেহগনিসহ নানা প্রজাতির দেশী বিদেশী গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে।

এ হাটে ফলের চারা কিনতে আসা পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার গৃহিণী ফাতেমা আক্তার বলেন , গত কয়েক মাস আগে ছাদ দিয়ে নতুন বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে। অনেক আগ থেকেই একটি শখ ছিল ছাদ কৃষি করার। তাই গত দুই সপ্তাহ ধরে এখানে চারা কিনতে আসা হচ্ছে। এখান থেকে মরিচ, বেগুন, লেবু, পেপে,মাল্টা, গাদা ফুল গোলাপ,জবা, ডালিয়া, হাসনাহেনা,বকুল ফুলের চারা কিনে লাগানো হয়েছে। দিন দিন চারার পরিমান বাড়ছে। তিনি বলেন যখনই সময় সুযোগ হয় চারা কিনতে এখানে আসা হয় বলে জানায়।

মো: আসলাম বলেন, বাড়ি সংলগ্ন স্বল্প জায়গায় সবজি আবাদ করতে জমি প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই সাপ্তাহিক হাট থেকে বেগুন, মরিচ এবং পেপের চারা ক্রয় করেন । এখান থেকে এক বছর ধরে তিনি নানা প্রকার চারা ক্রয় করছেন বলে জানায়।

সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার গৃহিনী বিলকিছ বেগম বলেন, করোনার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্বেও কোথাও বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। তাই সুযোগ হওয়ায় এখানে চলে আসা। নানা প্রকারের গাছের চারা দেখে বেশ কয়েকটি ফুলের চারা ক্রয় করেছেন বলে জানায়।

মর্জিনা বেগম বলেন, অনেক দিন ধরেই তার শখ ছিল ছাদ বাগান করতে । কিন্তু বাড়ির কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি করতে পারছে না। কাজ শেষ হওয়ায় তিনি ফল ফুলসহ নানা প্রজাতির চারা ক্রয় করেন।

মো: সাব্বির মিয়া বলেন, হাট বাজারে ভালো জাতের নারিকেলের চারা খোঁজ করে না পাওয়ায় এখান থেকে একটি নারিকেল গাছের চারা ৪৫০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন।

নার্সারি ব্যবসায়ী কাদির মিয়া বলেন , তার নার্সারিতে প্রায় লক্ষাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে। বর্ষার তিন মাস গাছ লাগানোর মৌসূম হলে তিনি নানা প্রজাতির গাছের চারা বছরজুড়ে বিক্রি করছেন। আর এ নার্সারির ব্যবসার আয়েই সংসার চলে তার।

নার্সারিতে গড়ে উঠা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা গুলো প্রতিদিন পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ভ্যান গাড়ি করে বিক্রি করছেন। দৈনিক ৫-৬ হাজার টাকার চারা বিক্রি হয়। তাছাড়া প্রতি সাপ্তাহে খড়মপুর নার্সারি হাটে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা চারা বিক্রি হয় বলে জানায়। প্রতিমাসে খরচ বাদে তার ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় হয় ।

নার্সারি ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, তার নার্সারিতে দেশী বিদেশী নানা জাতের ফল, ফুল, সবজির চারা রয়েছে। হাট বাজারে বিক্রির পাশাপাশি সাপ্তাহিক হাটে এসব চারা বিক্রি করছেন। তিনি বলেন এখন চারার মৌসুম না হলেও শৌখিন লোকজনের কাছে ফল, ফুল, সবজির চারার বেশ গুরুত্ব রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন পৌর শহরের খড়মপুর মাজার সংলগ্ন মাঠে সাপ্তাহিক সবুজ হাট ইতিমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। আর নার্সারি হলো এক একটা প্রাণের উৎস। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা থাকায় যেন এক নৈস্বর্গিক আনন্দ দেই। বৃক্ষ প্রেমিক যারা তারা কখনও মাদক গ্রহন করবে না। গাছের চারা দেখলে তারা ক্রয় করবে। তিনি আরও বলেন স্থানীয় পর্যায়ে যাদের নার্সারি রয়েছে তাদেরকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads