দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আর এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কোরবানি করা। তাই ঈদের পশু জবায়ের সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছ কামারপাড়া। দা, ছুরি, চাকু, কুড়াল তৈরি, সান ও মেরামত করতে কামাররা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সকাল থেকে তারা রাত পযর্ন্ত করছেন কাজ। ঈদকে কেন্দ্র করে কাজের চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যাওয়ায় তাদের যেন ফিরে তাকানোর সময় নেই যেন।
সরেজমিনে পৌর শহরের কলেজ রোড, উপজেলার গাজিরবাজার ও মোগড়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দা,ছুরি, চাকু, তৈরী , সান ও মেরামত করতে তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
দক্ষিণ ইউনিয়নের গাজিরবাজার এলাকায় কাজের ফাঁকে ফাঁকে কথা হয় শহীদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন ঈদ ছাড়া অন্যান্য সময় কাজ তেমন থাকে না। ঈদ উপলক্ষে বর্তমানে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ১ জন শ্রমিক রেখে তিনি কাজ করছেন । ছুরি থেকে শুরু করে বড় দা সান দিতে ৫০ টাকা থেকে কাজের গুনাগুনের উপর ১৫০ টাকার উপর মজুরি নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছর এখানে এ কাজ করে আসছেন। পরিবার তার ৪ মেয়ে ২ ছেলে রয়েছে। দৈনিক এ কাজের মাধ্যমে ৫শ থেকে ৭শ টাকা উপার্যন হলে ও এখন বেড়ে গেছে।
সুকেন চন্দ্র কর্মকার বলেন, আমরা লোহা স্পিং দিয়ে দা, ছুরি, বটি তৈরি করি। সারা বছর দোকান খোলা থাকলে ও কাজ কিছুটা কম হয় । তিনি আরো বলেন, লোহা স্পিং ও কয়লার দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওইসব সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি পেলে ও তাদের তৈরী করা ছুরি, দা, বটির দাম বৃদ্ধি পাইনি। বড় দা নিচে ৩শ থেকে উপরে ১ হাজার টাকা বিক্রি হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কাজের চাপ কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদ ছাড়া অন্য সময় ৬শ থেকে ৭শ টাকা দৈনিক আয় হয় বলে জানায়।
পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকা থেকে দা, ছুরি সান দিতে আসা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন , সাধারণত ঈদ ছাড়া দা, ছুরি সান দেওয়া হয়নি। তাই ২টি ছরি, ১টি দা সান দিতে আসা। ওই ৩টি সান দিতে মজুরি ১৫০ টাকা দিতে হয়।
মো. কাশেম মিয়া বলেন, প্রতি বছর কোরবানির মাংস কাটার জন্য বাড়িতে থাকা দা,বটি,ছুরির সানায়ের প্রয়োজন হয়। তাই এখান থেকে তিনটি দা,দুটি ছুরি সান দিতে ৩শ টাকা মজুরি দিতে হয়েছে।
মো. শাহীন মিয়া বলেন, কোরবানির পশু জবেহ করা, মাংস কাটা, ও চামড়া ছাড়ানোর জন্য ধারালো ছুরির প্রয়োজন। তাই ১টি ছুরি, ১টি দা ৬০০ টাকায় কেনা হয়। তাছাড়া ঘরে থাকা ২টি বটি মরিচিকা থাকায় তাদের কাছ থেকে সানায় করা হয়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী কামারদের ও দেখা যায়। তারা এলাকার বন্ধ দোকান ঘর স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়া করে অথবা খোলা জায়গায় বসে দা, ছুরি, চাকু,তৈরী ,সান ও মেরামত করছেন। তবে ঈদের পরে আর তাদের দেখা মিলে না।





