সারা দেশ

আখাউড়ায় তেলের কৃত্রিম সংকট

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩ মার্চ, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সর্বত্র হাট বাজারের হঠাৎ করেই ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। সেইসাথে দোকান দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে তেল। কোনো কোনো জায়গায় খোলা সয়াবিন তেল লিটার ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশি দামে তেল বিক্রি করায় বাজারে এক প্রকার যেন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

তবে বাজারের বেশিরভাগ দোকানদারই বলছেন, তাদের দোকানে তেল নেই। ক্রেতারা তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরত যাচ্ছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার পৌর শহরের সড়ক বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল এখন ১৬৮ টাকা ও খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা বিক্রি করা হতো এখন তা বেড়ে ১৯০-২০০ টাকা এবং বোতলজাত পাঁচ লিটার তেল ৭৯৫-৮৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে এখন অনেক দোকানি বলছেন, তাদের দোকানে তেল নেই। চাহিদানুযায়ী তাদেরকে তেল দিচ্ছে না। যাও আবার পাওয়া যাচ্ছে রয়েছে অনেক দামও। এদিকে যে কোনো সময় বাজারে তেলের সংকট দেখা দিতে পারে এমন খবরে লোকজন চাহিদার তুলনায় বেশি করে তেল কিনতে শুরু করেন।

তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী সমীর বলেন, কী কারণে দাম দিন দিন বাড়ছে তা তিনি জানেন না। কয়েক দিন ধরে তেল বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে তাই বাড়তি দামে তাকে বিক্রিও করতে হচ্ছে। তিনি বলেন এখন তার কাছে এক লিটারের দুই তিনটি বোতল আছে।

পাঁচ লিটারের কোনো তেলের বোতল নেই। তবে গত কয়েক দিন ধরে প্রতি বোতলে ১০ টাকার উপর বেশী দিয়ে ক্রয় করতে হয়েছে বলে জানায়। তিনি আরও জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ তাদের কাছে বেশী ক্রেতা এসেছেন সয়াবিন তেল ক্রয় করতে কিন্তু দোকানে পর্যাপ্ত না থাকায় লোকজন তেল না পাওয়ায় ফিরে যায়।

সড়ক বাজারের ব্যবসায়ী বাবু মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরেই কোনো কোম্পানি, ডিলার তেল তাদের চাহিদানুযায়ী সাপ্লাই দিচ্ছে না। যেগুলো আসছে তাও আবার দিচ্ছে খুবই সীমিত। আগে যেগুলো বাজারে খুব একটা বিক্রি হতো না এখন সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে। তবে আজকে তার কাছে ২ লিটারের ৩টি বোতল থাকলেও ৫ লিটারের কোন বোতল নেই বলে জানায়।

বাজার করতে আসা মো: কামরুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে যে তেল বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা লিটার, আজ সেই একই তেল ১৯০ টাকায় কিনতে হয়েছে। দিন দিন যে ভাবে তেলসহ জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষ খেয়ে-পরে কীভাবে বেঁচে থাকবে।

পাইকার ব্যবসায়ী মো: হাসান বলেছেন হঠাৎ করে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরী হয়েছে। আশা করছি সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে এই সংকট থাকবে না।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত দাম নিলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads