আখাউড়ায় দুপুরের মধ্যেই টিকা শেষ, মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় দুপুরের মধ্যেই টিকা শেষ , মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৭ অগাস্ট, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় ৫ টি কেন্দ্রে একযোগে করোনার গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে সকাল থেকেই টিকা নিতে আসা পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২৫ বছর ঊর্ধ্বে তরুণ-তরুণী, নারী পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকদের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রতিটি কেন্দ্রে কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা লোকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। অধির আগ্রহে দাঁড়িয়ে থেকে কেন্দ্র থেকে আগতরা টিকা নেন। কিন্তু দুপুর আড়াইটার মধ্যে নির্ধারিত সব টিকা শেষ হওয়ায় ফিরে যেতে হয়েছে অনেকেই। শনিবার সকাল থেকে ৫টি কেন্দ্রে তিন হাজার জনকে টিকা দেয়া হয়। দুপুর আড়াইটার মধ্যে সব কেন্দ্রের টিকা শেষ হয়ে যায়। ফলে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা দিতে না পেয়ে অনেকেই ফিরে যান।

উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে প্রথম দিনে গনহারে টিকা চলে। কেন্দ্রগুলো হলো পৌর শহরের জাহানারা হক মহিলা কলেজ,দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় , মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় , মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয় ও ধরখার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়। এই ৫টি কেন্দ্রে ৩ হাজার লোককে টিকা দেওয়া হয়।

পৌর শহরের জাহানারা হক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা আলমগীর হোসেন বলেন , দুপুর ঠিক ১২টায় টিকা নিতে লাইনে দাঁড়ান তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে তিনি টিকা নিয়েছেন বলে জানায়। এভাবে নেওয়ায় তিনি খুবই খুশি।

গৃহিণী বিলকিছ আক্তার বলেন দুপুর ২ টার দিকে টিকা নিতে তিনি লাইনে দাঁড়ান। ১০-১২ মিনিট যাওয়ার পর হঠাৎ তিনি জানতে পারেন এখানে টিকা শেষ। তখন মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর খবর আসে টিকা সিমিতি আছে। তারপর ভাগ্যক্রমে তাকে টিকা দেওয়া হয়। এরপর ও তিনি খুবই খুশি। কারণ এ উদ্যোগ নেওয়ায় সহজে তারা টিকা নিতে পেরেছেন।

দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মাহফুজুর রহমান বলেন জানান, সকাল থেকেই এই কেন্দ্রটিতে টিকা নিতে আসা আগ্রহী লোকজনরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করেন। শৃঙ্খলভাবে আগতরা টিকা নেন বলে জানায়।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মনিন বাবুল বলেন টিকা নিতে মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। যুবলীগের সদস্যরা টিকা নিতে আসা লোকদেরকে সার্বিক ভাবে সহায়তা করেন। তিনি আরো বলেন সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টিকা নিয়েছেন বিভিন্ন পেশার লোকজন। তবে দুপুর আড়াইটার মধ্যে টিকা শেষ হয়ে যায় বলে তিনি জানায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুর রহমান জানান, প্রথমদিন হওয়ায় মানুষের উপস্থিতি বেশি ছিল। তবে টিকা নিতে মানুষদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। প্রতিটি টিকাদান কেন্দ্রে লোকজন বেশী হওয়ায় অনেকেই টিকা না পেয়ে ফিরে গেছেন। তবে আগামীতে এ সমস্যা থাকবে না বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন টিকাদান কার্যক্রমে ৩৫ জন স্বাস্থ্য কর্মী, সেচ্ছাসেবক ৪৫ জন ও পুলিশ সদস্য,আনসার ও বিভিন্ন সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিলেন বলে জানায়।

এদিকে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় আখাউড়া পৌরসভা মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. জয়নাল আবেদীন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads