ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খামারিদের মাঝে দুঃশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। চলমান করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে সারা দেশের ন্যায় এ উপজেলায় ও চলছে কঠোর বিধি-নিষেধ। কঠোর বিধিনিষেধে গত সপ্তাহে পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় সাপ্তাহিক পশুর হাট বন্ধ ছিল। করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুরহাট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামনের সাপ্তাহে বাজার হবে কি না সেটিও নির্দিষ্ট করে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপজেলার ৫০৩ জন খামারি।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫০৬ টি খামারসহ পারিবারিকভাবে কৃষক তাদের বাড়িতে মোটাতাজাকরনসহ মোট ১৩ হাজার ৮৩২ টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়। এরমধ্যে গরু ১১১৫০টি মহিষ ৩৬৩টি ও ছাগল ভেড়া ২৩১৯টি রয়েছে।
সেই সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় সদর উপজেলাসহ অন্যান্য স্থান থেকে আরো ২ থেকে সাড়ে ৩ হাজার পশু আসবে বলে আশা করছেন। এ উপজেলায় যে পরিমাণ পশু কোরবানি করা হবে তা স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রাণী সম্পদ অফিস জানায়।
একাধিক খামারিরা জানায়, কোনবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় পদ্ধতিতে তারা গরু লালন-পালন করে স্থানীয়দের বিরাট চাহিদা তারা পূরণ করে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে গত সপ্তাহ পশুর হাট বন্ধ রাখা হয়। সামনে পশুর হাট বসেবে কি এখন পযর্ন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। যদি পশুর হাট না বসে তাহলে চলতি বছর অর্ধেকেরও বেশি পশু অবিক্রিত থেকে যাবে। ফলে তাদের বিরাট লোকসান গুণতে হবে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাধ্য হয়ে বেশীরভাগ খামরি এ ব্যবসা ছেড়ে দিবে বলে জানায়।
খামারিরা সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকার যদি লাকডাইন শিথিল করে এবং সরকারি নির্দেশ মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারের অনুমতি দেন তাহলে বিক্রি নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।
খামারি মো. মাহফুজ মিয়া বলেন ঈদকে কেন্দ্র করে এ বছর ৩০ টি গরু নিয়ে একটি খামার গড়ে তুলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে গরু নিয়ে অনেকটাই বিপাকে রয়েছেন। এপর্ন্ত তিনি ৩টি গরু বিক্রি করেছেন বলে জানায়। এ অবস্থা চললে বেশীভাগ গরু তার অবিক্রিত থেকে যাবে। ফলে তার অনেক টাকা লোকসান গুনতে হবে।
মো. তাজু ভূইয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদে বিক্রি করতে দেশীয় পদ্ধতিতে তিনি ১০টি গরু লালন পালন করা হয়। আর মাত্র কয়েক দিন বাদে পবিত্র ঈদুল আজহা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে পশুর হাট না বসায় গরু নিয়ে তিনি এক প্রকার শঙ্কায় পড়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে কি ভাবে পালন করা গরু বিক্রি করবেন এ নিয়ে চিন্তার মধ্যে কাটছে তার দিন।
মো. মুছা মিয়া মিয়া বলেন, ধারদেনা করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ১৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। গরু কেনা, লালান পালন, খাবার, ওষধসহ অনেক টাকা ব্যয় হয় তার। বর্তমান এ পরিস্থিতির কারণে গরু বিক্রি করতে না পারলে অনেক লোকসান গুণতে হবে।
মো. কাইয়ুম মিয়া বলেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তিনি দীর্ঘ ৭ বছর ধরে গরু বিক্রি করছেন। এবছর ২০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। পশুর রোগ বালাই থেকে রক্ষা পেতে তিনি নিয়মিত উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কার্যালয়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ইতিমধ্যে গরু বিক্রি করতে ফেসবুক গ্রুপে গরুর ছবি আপলোড দেওয়ায় হয়েছে। লোকজন দেখে কাঙ্খিত দাম না বলায় দু:শ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি আশাবাদি সরকার যদি পশুর হাট বসার ব্যবস্থা করেন তাহলে ঘরে থাকা গরুগুলো ভালো দামে বিক্রি করা যাবে বলে জানায়।
মো. হোসেন মিয়া বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমারা মুখ্য সুখ্য মানুষ গরু বিক্রি করতে অনলাইন বুঝি না। প্রতি বছর হাটে গরু নিয়ে যায় সেখানে দরদাম করে বিক্রি করে আসছি। তার খামারে থাকা ১৪ টি গরুর মধ্যে এ পযর্ন্ত ২টি গরু বিক্রি হয়। এবার যদি হাট না বসে গরু নিয়ে তাকে অনেক বিপাকে পড়তে হবে।
আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. কামাল বাশার বাংলাদেশের খবরকে বলেন, কোরবানির পশু বিক্রি করতে আখাউড়া অনলাইন কোরবানির ‘পশুর হাট নামের ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। খামারি ও গৃহস্থরা নিজ আগ্রহে তাদের গরুর ছবি মোবাইল নাম্বার দিয়ে যুক্ত হচ্ছেন। তাছাড়া অনেকে নিজ ফেসবুক আইডি খোলে গরুর ছবি মোবাইল নাম্বার দিয়ে আপলোড করে প্রচার করছেন। এই প্রচারের মাধ্যমে অনেকেই বিক্রিতে ভালো সারা পাচ্ছেন। আর যারা এখনো এসব করেনি বা করতে পারছেন না, তাদের পশু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানায়। এ উপজেলার কৃষক ও খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে যত্ননিয়ে গরু লালন পালন করছে। চাহিদা অনুযায়ী পশু বেশী রয়েছে। স্থানীয়দের উৎপাদিত পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটানো যাবে।





