আখাউড়ায় লাগেজ পার্টি তৎপরতা বেড়েছে

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

আখাউড়ায় লাগেজ পার্টি তৎপরতা বেড়েছে

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ মার্চ, ২০২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে লাগেজ পার্টির তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতীয় সংঘবদ্ধ চক্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কৌশলে এ কাজ করে আসছেন। ওই পার্টির লোকজনরা সংশ্লিষ্টদেরকে ম্যানেজ করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে ভারত থেকে তৈরী পোশাক, কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্য এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে । এতে সরকার ও বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে গত ২০ দিনের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ ওষধ, তৈরী পোশাক কসমেটিকসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ গতকাল শনিবার বিকালে ইমিগ্রেশন কাস্টমস কর্মকর্তারা ৪ বাংলাদেশী নাগরিকের কাছ থেকে ১২টি লাগেজে থাকা বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ৪৭০ পিস তৈরি পোশাক জব্দ করা হয়। ওইসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে থ্রিপিস, পাঞ্জাবী,টি-শার্ট,ওড়না, জিন্সপ্যান্ট, শাড়ী, শার্ট,ব্লাউজ ও ওয়ান পিচ রয়েছে। যার বাজার মূল্য ৯ লাখ টাকা হবে বলে প্রাথমিকভাবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ওই পাসপোর্টধারী ৪ বাংলাদেশী নাগরিক হলেন চট্রগ্রামের মো. সাদ্দাম হোসেন, শওকত ওসমান, মো. খোরশেদ আলম, ও মোহাম্মদ ইমতিয়াজ।

গত ২১ মার্চ দুই ভারতীয় যাত্রীর লাগেজ থেকে বিভিন্ন ধরনের ২৮০টি থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। যার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। ভারতের পাসপোর্টধারী দুই নাগরিক হলেন আবির রায় ও হেমলাল মন্ডল । সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন আগরতলা থেকে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্ত পথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। ইমিগ্রেশনে তাদের কাজ সম্পন্ন হলেও তারা ইমিগ্রেশন ত্যাগ না করে বড় আকারের ছয়টি লাগেজ নিয়ে অন্ধকারের মধ্যে যাত্রী ছাউনিতে বসে থাকেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য জানতে পেরে কাস্টমস স্থল শুল্ক রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ্ নোমান সিদ্দিকী ও কাস্টমস স্থল শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ ওই দুই ভারতীয় পাসপোর্টধারীকে কাস্টমস ভবনে নিয়ে আসেন। এসময় তাদেরকে সহযোগিতা করেন কাস্টম্স ও এনএসআই। পরে কাস্টমস হাউজে তাদের লাগেজ তল্লাশী করে বিভিন্ন ধরনের ২৮০টি থ্রি-পিস জব্দ করা হয়। এসময় ওই ভারতীয় নাগরিকরা জানায় তারা কোলকাতা থেকে কাপড় নিয়ে এসেছে। এগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার হবে।

গত ১৭ মার্চ পাঁচটি ব্যাগ থেকে প্রায় ২৯৪টি পোশাক জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি থ্রিপিস, ২০৬টি টি শার্ট, ১৮টি জিন্স প্যান্ট ছিল। ব্যাগে একাধিক মদের বোতলও পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ধরা হয় পৌণে ছয় লাখ টাকা। পণ্য আনার দায়ে ৮৩ হাজার টাকা শুল্ক আদায় করে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। গত ১৩ মার্চ আখাউড়া স্থল বন্দরে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা ৩ পাসপোর্ট ধারী যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে আমদানি নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ওষধ জব্দ করে কাষ্টমস শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। তবে ওই ওষধ মাদক না হওয়ায় ওই তিন যাত্রীকে আটক না করে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওষধগুলো শুল্ক গুদামে জমা করা হয়।

গত ৭ মার্চ আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন ও বিজিবি চেকপোস্ট হয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় টু-পিচ ওয়ান পিচ কাপড়ের চালান জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কালিয়াকাপুর এলাকা থেকে ওই কাপড়গুলো জব্দ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের কয়েকজন নাগরিক দিয়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড় আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় কিছু লাগেজ পার্টি এর সাথে জড়িত রয়েছে। এরাই ভারতীয়দেরকে ব্যবহার করে এসব কাপড় আনছে। পরে বন্দর সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ম্যানেজ করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কাপড়গুলো বের করে নিয়ে যায়। আবার অনেক সময় কাস্টম্সে প্রবেশ না করে ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। এসব কাপড় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।

আখাউড়া কাস্টমস স্থল শুল্ক রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ্ নোমান সিদ্দিকী বলেন, অবৈধ ভাবে শুল্ক ফাঁকি দেয়ে কোন প্রকার মালামাল নিয়ে যাওয়ায় কোন সুযোগ নেই। এ বন্দরে সংশ্লিষ্ট লোকজন খুবই তৎপর রয়েছে। তিনি আরও বলেন জব্দ হওয়ায তৈরি পোশাক গুলি নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায় সেগুলো তালিকা (ডিএম) করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৪-৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্টধারীরা নির্ধারিত সকল ট্যাক্স পরিশোধের মাধ্যমে মালামাল গুলি নিয়ে যেতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে পণ্যগুলো না নিলে আমরা স্থায়ীভাবে জব্দ করে গোডাউনে রাখা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads