আকাশ ভালো, নেই কোন ঝড় তুফান, মাঝে মধ্যে হচ্ছে হালকা বৃষ্টি । তাও আবার স্বল্প সময়। কিন্তু বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে বন্ধ নেই। তবে এই রমজানে সেহরী ও ইফতারের সময় ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়া আর চলতি মৌসুমে বোরো ক্ষেত্রের সঠিকভাবে সেচ দিতে না পেরে চরম বিপাকে আছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সাধারণ গ্রাহকরা। রাত দিনে অন্ত:ত ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করছে। ঘন ঘন বিদ্রুৎ আসা যাওয়া ও লোডশেডিংএর কবলে পড়ায় গ্রাহকরা এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পৌর শহরসহ উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরেই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে বিদ্যুতের লোড শেডিং। তবে রমজানের শুরুতে গরমের এই গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় পাশাপাশি ৪-৫ ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিংএর ফলে সবচাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা । সেইসাথে বিদ্যুৎ লোকোচুরির কারনে প্রতিনিয়তই নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, সিলিং ফ্যান, পানির পাম্প, সেঁচ মেশিনসহ ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রাংশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার বলেও কোনও সুরাহা হয়নি। লোডশেডিংয়ের কারণে রমজানে সেহরী ও তারাবি নামাজ তীব্র গরম উপেক্ষা করে আদায় করছে ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এভাবে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সেঁচ, গ্রীষ্ম ও রমজানে চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রীড থেকে লোড সরবরাহ কম হওয়ায় বিদ্যুতের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। হঠাৎ করে বাড়তি চাপের কারণে কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানায়।
উপজেলার মোগড়া এলাকার অটো রিকশা চালক মো: রনি মিয়া বলেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে ইফতারের আগে বাড়িতে ফিরে দেখি বিদ্যুৎ নেই। এই গরমে বিদ্যুত না থাকায় সেহরী ও ইফতার ঠিকমতো আরামে খেতে পারছি না। সেইসাথে ঘনঘন লোডশেডিং এর কারণে রাতে ঠিকভাবে ঘুমাতেও পারছি না।
নয়াদিল গ্রামের মো. সিরাজ মিয়া বলেন, নিত্যদিন দিনে রাতে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ আসা যাওয়া করে। বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় কোন কাজ ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।
সাতপাড়া গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, সারাদিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। কয়েকদিনের খরায় ফসলে পানির দরকার হলেও লোড শেডিংয়ের জন্য জমিতে ঠিকমতো পানি দিতে না পারায় ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৌর শহরের রাধানগর এলাকার মো: জামশেদ মিয়া বলেন, লোডশেডিং এর কোন সময় নেই, যখন তখন রাত-দিন লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এটার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার।
ব্যবসায়ী মো: আলম মিয়া বলেন, কম্পিউটার চালু হতে ৩-৪ মিনিট লাগে। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখা যায় ১০ মিনিটের মধ্যে ২-৩ বার বিদ্যুৎ আসে আর যায়। এতে কম্পিউটার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতির সম্মখীন হতে হয়।
মো:সেলিম মিয়া বলেন, আগে দিনে ও সন্ধ্যায় লোডশেডিং হলে ও মাঝ রাতে হতো না। এখন তাও হচ্ছে। সারা দিন খাটুনির পর রাতে ঘুমাতে গেলে বিদ্যুৎ থাকে না। অসহ্য গরমে ঘুমানো যায় না।
উপজেলা সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, গ্রাহক পয়সা দিয়ে বিদ্যুৎ কিনে চাহিদা মত সে বিদ্যুৎ পাবে না সেটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শহর থেকে গ্রাম সকল ক্ষেত্রে মানুষ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রত্যাশা করছে সকলে। এখন বোরো ধান এবং রবি শস্যে সেচের চূড়ান্ত সময় তার ওপর তীব্র গরম ও রমজান, কাজেই এ সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা খুবই ক্ষতিকর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ।
আখাউড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. আবুল বাশার বলেন, যথা সাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে। অনেক সময় বৈদ্যতিক লাইনে সমস্যা ও কাজ করায় লোডশেডিং হয়। তবে এ সমস্যা থাকবে না। লোডশেডিং কমিয়ে আনার চেষ্ট করা হচ্ছে।





