আজ কালিয়াকৈর হানাদার মুক্ত দিবস

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

আজ কালিয়াকৈর হানাদার মুক্ত দিবস

  • কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

পাকিস্তানি শোষণ ও বঞ্চনার হাত থেকে দেশকে, দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে এ দেশের মুক্তিপাগল মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে। সারা দেশের মতো গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার অসংখ্য সাহসী যুবক ও তরুণ মহান মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।

তাদের মহান আত্মত্যাগের জন্যই দেশের স্বাধীনতা এসেছে। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর যুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কালিয়াকৈর থেকে চোরের মতো পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে পবিত্র ঈদুল ফিতরের রাতে কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর ব্রিজের নিকট মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকহানাদার বাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ হয়। ফলে পাকবাহিনী ওই রাতে শ্রীফলতলী গ্রামটি জালিয়ে দেয় ও নিরীহ জনসাধারণের উপর অমানষিক নির্যাতন চালায়।

১৪ ডিসেম্বর উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকায় বংশী ব্রিজের কাছে পাক-বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে বীর  মুক্তিযোদ্ধা শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র দাস ও ফজলুল করিম শহীদ হন। ওই একই দিন উপজেলার সোনাখালী সেতু হতে পাকবাহিনী মতিউর রহমান নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে যায়। আজ পর‌যন্ত তার সন্ধান  পাওয়া যায়নি।

এছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে ওই সময় নোমিজ উদ্দিন, আব্দুল আজিজ,শাহাবুদ্দিন,নুরুল ইসলাম, আ. সালাম ও বাবুল হোসেন নামে ৬জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন ।অপর দিকে টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়ায় শহীদ হন মো: লাবিব উদ্দিন নামে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ওই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে কালিয়াকৈর বাজারের একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ লাবিব সড়ক। অনেক ত্যাগের পর ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আজেকের এই দিনে কালিয়াকৈর হানাদার মুক্ত হয়।

কালিয়াকৈর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন আহসান জানান, কালিয়াকৈর থেকে অংশগ্রহণকারী ৩ শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা কাদেরিয়া বাহিনী, আফসার গ্রুপ, হাকিম গ্রুপ, আনোয়ার গ্রুপ, দেওয়ান ইব্রাহীম ও আব্দুল ওয়াহাব মিয়ার গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সরাসরি মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads