আট দিন অতিবাহিত হলেও কুমিল্লা সদর উপজেলার চম্পকনগর সাতরা এলাকার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিফাত হত্যাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ দিকে রিফাতের মায়ের অভিযোগ প্রাইভেট টিউটর তাহমিনা আক্তার রিংকু ও তার ভাই একাদশ শ্রেণীর ছাত্র হৃদয়ের দিকে। তবে পুলিশ বলছে তদন্ত প্রায় শেষ। শীঘ্রই আসামিদের আটক করা হবে।
রিফাতের মা জেসমিন আক্তার বলেন, তদন্তের স্বার্থে তার স্বামী আলমগীর হোসেন ও রিফাতের বর্তমান টিউটর বিউটিকে পুলিশ থানায় যেতে বলেছে। রিফাতের খুনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ডুকরে কেঁদে উঠেন। রিফাতের শিক্ষক একই এলাকার আবদুল কাদের শিপনের মেয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিদা আক্তার রিংকুর কাছে প্রাইভেট পড়তো রিফাত। রিফাতদের বাসায় দু’বার চুরির ঘটনা ঘটে। প্রথমবার চুরির ঘটনায় বাসা থেকে একটি মোবাইল ট্যাব চুরি হয়। দ্বিতীয়বার পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। পরে এ ঘটনায় রিফাতের প্রাইভেট টিউটর তাহমিদা আক্তার রিংকু ও তার ভাই হৃদয়ের প্রতি সন্দেহ হলে তাদেরকে জিজ্ঞেস করি। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। এ ঘটনার এক মাস পরে রিংকুকে বাদ দিয়ে রিফাতকে পাশের বাড়ির বিউটি আক্তারের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য ঠিক করা হয়। হত্যাকা-ের রাতেও বিউটির কাছে প্রাইভেট পড়ে রিফাত। এমন অভিযোগ অস্বীকার করে রিফাতের সাবেক টিউটর তাহমিনা আক্তার রিংকু বলেন, চুরির ঘটনা নিয়ে রিফাতের মা আমাদেরকে যথেষ্ট অপমান করে। ঘরে এসে তল্লাশি চালায়। আমার ভাই এমন কাজ করতে পারে না। রিফাতের মা আমাদেরকে কবিরাজ থেকে এনে পানি পড়া পান করান। আমাদের কিছুই হয়নি। পরে সৌদিতে অবস্থানরত রিফাতের বাবা আমার ভাই হৃদয়কে চোর বলে প্রতিবেশীদের কাছে জানায়। তাই আমি বলছি যদি আমাদেরকে চোর প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন তাহলে আপনারা সবার সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। এতটুকুই বলি। আজ আমার ভাই পাঁচদিন ধরে জেলে। কোন অপরাধ না করেও বিনা কারণে জেল খাটছে।
এদিকে বর্তমান টিউটর বিউটির বক্তব্য নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রিফাতের মা। তিনি বলেন,আমি এখন বিউটিকে বিশ্বাস করতে পারছি না। রিফাত খুনের পরে সে একবার বলছে বাড়ির কাছে পর্যন্ত রিফাতকে পৌঁছে দিয়ে গেছে। আবার বলে মাঝ রাস্তা পর্যন্ত রিফাতকে এগিয়ে দিয়ে যায়। আল্লাই ভালো জানেন কে বা কারা রিফাতকে হত্যা করেছে।
রিফাত খুনের ঘটনা তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এসএম আরিফুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। আমরা খুনের রহস্য উন্মোচন করার কাছাকাছি আছি। আশা করি খুব দ্রুতই আসামিদের আটক করে আদালতে সোর্পদ করতে পারবো।
উল্লেখ্য-১৯অক্টোর নিজ বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে স্কুল ছাত্র রিফাতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।





