আরিচায় অবৈধ ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

আরিচায় অবৈধ ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

  • নুরুজ্জামান, মানিকগঞ্জ
  • প্রকাশিত ৭ জুন, ২০২১

শিবালয়ে অবৈধভাবে ট্রলার দিয়ে চলছে যাত্রী পারাপার। দেখেও দেখছে না প্রশাসন। ভরা মৌসুমেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার যোগে প্রতিদিন পদ্মা-যমুনা পাড়ি দিচ্ছে শত শত নারী-শিশুসহ অনেক যাত্রী।

জানা গেছে, ইঞ্চিন চালিত এসব ট্রলার যোগে প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। শিবালয় উপজেলা আওয়ামী  লীগের সদস্য বিশ্বজিৎ কুমার দাসের নেতৃতে এসব অবৈধ ট্রলার চালানো হয়।এদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার সক্রিয় হয়ে পড়ে।

এছাড়া, আরিচা ৩ নং ফেরিঘাট থেকে সারা বছর ট্রলার মালিকদের জিম্মি করে প্রতি ট্রলার থেকে প্রতিদিন  ৫ থেকে ৭’শ টাকা চাঁদা আদায় করছে বিশ্বজিৎ, জালাল ও রহিম খন্দকার।আরিচা লঞ্চঘাট থেকে কাজিরহাটসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের যাত্রীদের নিকট থেকে ২/৩গুন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এসব প্রভাবশালী চক্রের ইন্দনে। ইঞ্চিনচালিত এসব ট্রলারে লাইফ সাপোর্টের কোন ব্যবস্থা না থাকলেও ধারন ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে প্রমত্তা যমুনা পাড়ি দিচ্ছে। এতে যে কোন সময় বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনার আশংকা করছেন যাত্রী সাধারণ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে বিকেল ৪টার পর থেকে আরিচাঘাটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। এই সুযোগে বিশ্বজিৎ তার বাহিনী দিয়ে বিকেল ৪টার পর থেকে অবৈধভাবে ট্রলার দিয়ে যাত্রীপারাপার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রলার মালিক বলেন, আমরা ট্রলার মালিক হয়েও নিজেদের ইচ্ছে মত ট্রলার চালাতে পারি না। ঘাটের মামাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ট্রলারের সিরিয়ালে ট্রলার চালানো হয় এবং আমাদের ট্রলারের যাত্রী ভাড়া নির্ধারণ করে মামারা। বছরের পর বছর চলছে এই নৈরাজ্য। অনেকে বাধ্য হয়ে ট্রলার বিক্রি করে ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বজিৎ কুমার দাস বলেন,আমি ট্রলার থেকে কোন টাকা পয়সা নেই না। ট্রলার দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হয় যুগ যুগ ধরে। এটা নতুন কোন বিষয় নয়। এখন আগের চেয়ে যাত্রী কমে গেছে।ভাই হিসেবে বলছি আপনি একদিন চা খেতে আইসেন।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে বিআইডব্লিউটি’এ। চাঁদাবজির ঘটনা হলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলীমো:শাহ আলম বলেন, এসব ট্রলার চলাচলে বিআইডব্লিউটিএ অনুমোদন দেয় না। যেহেতু এখানে নতুন যোগদান করেছি। তবে আরিচাঘাটে ট্রলার চলাচলের কথা শুনেছি।কতগুলো ট্রলার চলে তার সঠিক পরিসংখ্যান আমি জানিনা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads