জাতীয়

ঈদযাত্রায় এবার স্বস্তির আশা

  • প্রকাশিত ৩১ মার্চ, ২০২৪

এম এ বাবর:

এবার ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে বাংলা নববর্ষের ছুটি। তাই ঈদ কেন্দ্রিক লম্বা ছুটির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে দেশ। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে ১০ দিনের লম্বা ছুটি পাচ্ছেন দেশবাসী। তাই বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে দেশের মহাসড়কের অবস্থা ভালো হওয়ায় এবার ঈদ যাত্রায় সড়কপথে যাত্রীর চাপ বাড়বে অনেক। তাই যাত্রীর চাপ অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক বাস চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুত সড়ক পরিবহন কোম্পানিগুলো। অন্যদিকে রেলপথেও যাত্রীদের ব্যাপক সারা পাওয়া যাচ্ছে। তবে পদ্মা সেতুর কারণে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন লঞ্চ মালিকরা। এখনো লঞ্চঘাটে নেই যাত্রীর চাপ, এরমধ্যেও ঈদের আগ মুহূর্তের আশায় আছেন লঞ্চমালিক-শ্রমিকরা।

ঈদে কেবল গ্রামের বাড়ির উদ্দেশেই নয়, অনেকে বিনোদনের জন্যও ঢাকা ছাড়বেন। লম্বা ছুটিতে দেশের বাইরেও যাবেন কেউ কেউ। চাঁদের অবস্থান অনুযায়ী দেশে ১২ মার্চ রোজা শুরু হয়েছে। ঈদের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করা আছে ১০, ১১ এবং ১২ এপ্রিল।

তাছাড়া ঈদের আগে শবে কদর আর পরে পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে ৫ থেকে ১৪ এপ্রিল এই ১০ দিনের মধ্যে অফিস খোলা থাকবে কেবল ৮ এপ্রিল। ৫ ও ৬ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ৭ এপ্রিল শবে কদর সরকারি ছুটি। ৮ এপ্রিল এক দিন অফিস খোলা। এক দিন বাড়লে ৯ থেকে ১২ এপ্রিল চার দিন ঈদের ছুটি। আবার ১২ ও ১৩ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ১৪ এপ্রিল রোববার বাংলা নববর্ষের সরকারি ছুটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঈদের আগেই ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করবে, যার প্রস্তাব এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এখনো ঈদযাত্রা শুরু না হলেও গণপরিবহন মালিকরা আশা করছেন এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে। একই আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেও। ২৪ মার্চ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঈদ উপলক্ষে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। লঞ্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ থেকে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) ৫ শতাধিক বাস দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত। এছাড়া দূরপাল্লার রুটে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন প্রাভেট কোম্পানির কয়েক হাজার বাস।

এদিকে দেশের মহাসড়কগুলোর অবস্থা ভালো থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি কম হবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবারের ঈদযাত্রা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিগত বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় কিছুটা ভোগান্তি হয়েছে। এবার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত সড়কে আর কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। প্রকল্পের সওজ এর অংশের আওতায় নির্মিত সাতটি ফ্লাইওভার যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। এর ফলে এবার ময়মনসিংহের পথে ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে ঈদের আগে ও পরে ট্রাক-ভারী পরিবহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবাই যদি নিষ্ঠার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে তাহলে এবার মহাসড়কে যানজট থাকবে না। অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থাও ভালো।

ঈদযাত্রায় এখনো সড়ক পথে যাত্রীর দেখা না মিললেও বড় বাস কোম্পানি অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছে। তবে কাউন্টারগুলোতে টিকিটপ্রত্যাশী যাত্রীর দেখা মিলছে না। শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের কর্মী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলেও টিকিট বিক্রিতে কোনো চাপ নেই। অনেকেই অনলাইনে অগ্রিম টিকিট আমাদের কল্যাণপুর কাউন্টার থেকে নিচ্ছে। ১ এপ্রিল থেকে বাসের টিকিটের চাপ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ যাত্রীরা প্রথমেই রেলের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করে। রেলের টিকিট না পেলে তখন বাসের টিকিটের জন্য ছুটে। ১ বা ২ এপ্রিলের মধ্যে সবাই বেতন ও বোনাস পাবে। তখন টিকিট কাটা শুরু করবে। যাত্রীর চাপ ও সড়কের অবস্থার ওপর নির্ভর করে গাড়ি ছাড়া হবে। আগেই অতিরিক্ত টিকিট ছাড়া হবে না। রাস্তায় যানজট না থাকলে স্পেশাল ও অতিরিক্ত সার্ভিসের জন্যও পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শ্যামলী এনআর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানান, বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে যাত্রীদের যেন ভোগান্তি পোহাতে না হয়; সে জন্য বাস মালিকদের পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম কাজ করবে। বাস মালিকদের মনিটরিং টিমের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনও কাজ করবে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেনÑ ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে কোনো গাড়ি নষ্ট হয়ে গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরানোর ব্যবস্থা থাকবে। ঈদযাত্রা শুরুর পর সব মহাসড়কে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা টহল থাকবে। পাশাপাশি থানা পুলিশকেও কাজে লাগানো হবে।

অন্যদিকে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে। তাই রেলস্টেশনে নেই কোনো চাপ। ট্রেনের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে করতে রাজধানীর কমলাপুর, বিমানবন্দর, তেজগাঁও এবং জয়দেবপুরসহ চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা স্টেশনে বাঁশের ব্যারিকেট দিয়ে বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একজন যাত্রীকে চার স্তরে টিকিট পরীক্ষা করে তবেই ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে। এসব ব্যবস্থাপনার কারণে এবারের ঈদযাত্রা অনেকাংশে স্বস্তির হবে বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেল সচিব ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, এবার মোট ২৪৮টি লোকমোটিভ প্রস্তুত করা হয়েছে, অতিরিক্ত ৮৬টি বগি রেল বহরে যুক্ত হবে। ঈদ উপলক্ষে সব ট্রেনের অব ডে বাতিল করা হয়েছে, কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হবে এবং আন্তঃদেশীয় মৈত্রী, মিতালী ও বন্ধন এক্সপ্রেস ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। আর কোনো যাত্রী যাতে ছাদে উঠতে না পারে সে জন্য বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে।

রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম জানিয়েছেন, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রায় ১০০টি নতুন বগি প্রস্তুত করা হচ্ছে যা ঈদ বহরে যুক্ত হবে। সিডিউল বিপর্যয়ে প্রয়োজনে একটি বা দুটি বাড়তি রেক প্রস্তত থাকবে। যাতে কোনো ট্রেন অতিরিক্ত লেট করলে এ রেক দিয়ে সিডিউল বিপর্যয় রোধ করা যায়।

তিনি জানান, গত ঈদে ৩০ হাজার যাত্রী বহন করলেও এবারে প্রায় ৫০-৬০ হাজার যাত্রী প্রতিদিন ট্রেনে করে বাড়ি যেতে পারবেন। এদিকে ফিরতি যাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ এপ্রিল। ওই দিন পাওয়া যাবে ১৩ এপ্রিলের টিকিট। এভাবে ৯ এপ্রিল ১৯ এপ্রিলের ফিরতি টিকিট বিক্রি করবে রেলওয়ে।

আকাশপথেও চাপ আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ঈদে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও কম না। এর মধ্যে বড় অংশটি যাচ্ছেন কলকাতা ও থাইল্যান্ডে। ইউএস বাংলার ম্যানেজার কামরুল ইসলাম জানান, তাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঈদের দিন এবং ঈদের পরের তিন দিন চাপ বেশি। প্রায় সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে ঈদের আগেও এবার চাপ বেশি। লম্বা ছুটির কারণে অনেকেই ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন। ঈদের দিন কক্সবাজারের সব ফ্লাইটের বুকিংই শেষ।

নৌপথে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে লঞ্চ মালিক ও বিআইডব্লিউটিএ। তবে পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরু হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়ে গেছে। এতে কম সময় ও দূরত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারছেন বরিশাল অঞ্চলের যাত্রীরা। সড়কপথের এমন সুবিধায় এরই মধ্যে নৌপথে যাত্রীসংখ্যা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। শুধু তাই নয়, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ও মাঝিরকান্দি, শরীয়তপুর, সুরেশ্বরসহ কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল একেবারে সীমিত হয়ে গেছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে দেখা রাজধানীর সদরঘাট গিয়ে দেখা গেছে, কিছু যাত্রীর দেখা মিলছে এ নদীবন্দরে। সারি সারি থেমে থাকা লঞ্চগুলোর কর্মীরা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। কারো হাতে-কাঁধে ব্যাগ-বোঝা দেখলেই নিজ লঞ্চে তোলার উদ্দেশে ডেকে গন্তব্য জিজ্ঞাসা করছেন।

মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার ইমরান হোসেন বললেন, ‘যাত্রী খুবই কম। আগের তুলনায় ২০ শতাংশ হতে পারে। আরো সপ্তাহখানেক পর ঈদের পরিস্থিতি বোঝা যাবে। তিনি জানান, ঢাকা থেকে এক সময় প্রতিদিন তাদের আট থেকে ৯টি লঞ্চ বরিশাল যেত। পদ্মা সেতু চালুর পর কমতে কমতে এখন তা দুটিতে নেমে এসেছে। সপ্তাহে এক দিন যায় সর্বোচ্চ তিনটি। সারা বছর ধরে মোটামুটি এই চিত্রই চলে।

ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসা খুব বেশি বাড়বে এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। লঞ্চের যাত্রী কমে যাওয়ায় অগ্রিম টিকিটেরও চাহিদা নেই। অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হলেও শুধু ঈদের একেবারে আগের ৮ ও ৯ এপ্রিলের কিছু কেবিন বুক হচ্ছে। অন্যদিনের টিকিট এখনো তেমন বিক্রি হচ্ছে না। তবুও যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা বেশি হবে এ আশা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন লঞ্চ মালিকরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) ঢাকা নদীবন্দর সূত্র বলছে, ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে ২২০টির মতো লঞ্চ তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে আগে নিয়মিত ৯০টি লঞ্চ চলত। পদ্মা সেতু হওয়ার পর এ সংখ্যা ৪০-এ নেমে এসেছে। যাত্রীর অভাবে ১০টির মতো নৌপথ পুরোপুরি এবং অনেকগুলো আংশিক বন্ধ হয়েছে।

সুন্দরবন-১১ লঞ্চের সুপারভাইজার মনির হোসেন জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে কেবিন বুকিং চলছে। বেশ কিছু কেবিন বুকিং হয়েছে। তবে এবার আগের মতো কেবিনের চাহিদা নেই। যারাই ফোন করছেন, তাদের কেবিন বুকিং রাখা হচ্ছে, বিকাশে টাকা দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ যাত্রী পরিবহন সমিতির-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল বলেন, আগে অগ্রিম টিকিট শুরুর আগেই অনেকে টিকিটের কথা বলে রাখত। এবার এখন পর্যন্ত কেউ অগ্রিম টিকিটের কথা বলেনি। আমরা আশঙ্কা করছি এবার লঞ্চে তেমন যাত্রী হবে না। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই নৌপথে যাত্রীদের চাপ কমে গেছে। এছাড়াও যানজট ও সড়কে অব্যবস্থাপনার কারণে সদরঘাট পর্যন্ত যাত্রীদের পৌঁছানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বদিউজ্জামান বাদল জানান, স্বাভাবিক সময়ের মতোই সদরঘাট থেকে সীমিত (৩০ থেকে ৩৫টি) লঞ্চ ছাড়া হবে। যাত্রী হলে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হবে। গত ঈদে ৬০ থেকে ৬৫টি লঞ্চ চালানো হয়েছিল। গত ঈদে শেষ মুহূর্তে ব্যাপক যাত্রী হয়েছিল।

বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, যাত্রী একেবারেই নেই। ঈদের পরিস্থিতি কেমন হবে তা ২৫ রমজানের পরে বোঝা যাবে। তবে আমরা আমাদের সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। যেসব লঞ্চ সারা বছর পড়ে ছিল সেগুলো চলাচলের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

গত ১৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপদ ও দুর্ঘটনামুক্ত নৌযান চলাচল নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সভাকক্ষে সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি সভা হয়। সভার কার্যবিবরণী থেকে এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানা যায়। সভায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে লঞ্চে মোটরসাইকেল পরিবহন সীমিত করা হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন করা না হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে লঞ্চে দুইটি, ১২০ ফুট থেকে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে লঞ্চে চারটি এবং ২০১ ফুট থেকে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে লঞ্চে সর্বোচ্চ ছয়টি মোটরসাইকেল পারাপার করা যাবে।

এছাড়া মোটরসাইকেল পরিবহনের ভাড়াও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ওজন ও আকৃতি বিবেচনা করে ঢাকা-চাঁদপুর পর্যন্ত প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য ৩০০ টাকা এবং ঢাকা-চাঁদপুরের ডাউনে (বরিশাল-ঝালকাঠী-পটুয়াখালী-বরগুনা) প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকা।

যদিও সভায় এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন লঞ্চ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ যাত্রী পরিবহন সমিতির (বিআইডব্লিউপিসিএ)-এর সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। বর্তমানে লঞ্চে যাত্রী কমে গেছে উল্লেখ করে সিদ্দিকুর রহমান মোটরসাইকেল পারাপারের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে সেটা সভায় আমলে নেওয়া হয়নি।

এছাড়াও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় যে সব সিদ্ধান্ত হয়েছে তার মধ্যে আছে, ঈদের আগে পাঁচ দিন, ঈদের দিন এবং পরে পাঁচ দিনসহ মোট ১১ দিন সদরঘাট হয়ে নৌযানে মালামাল পরিবহন বন্ধ থাকবে। রাতের বেলায় বন্ধ থাকবে স্পিডবোট চলাচল। নৌপথে জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯ এবং বিআইডব্লিউটিএর হটলাইন ১৬১১৩ এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও ট্রাফিক) মোহাম্মদ আলমগীর কবীর বলেন, মন্ত্রণালয়ের সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা মাঠে কাজ করতে যাচ্ছি। আগের মতো যাত্রীর সেই ভিড় হবে বলে মনে হচ্ছে না। তবু আমাদের কার্যক্রমের কোনো কমতি নেই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads