ঈদে বাড়তি আয়ে রাস্তায় ব্যস্ত চালকরা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

ঈদে বাড়তি আয়ে রাস্তায় ব্যস্ত চালকরা

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৩ মে, ২০২২

কেউ রিকশা, কেউ সিএনজি রিকশা, কেউ বা ব্যাটারি চালিত অটো রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছে। পরিবারের জন্য কিছু বাড়তি আয় করতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন চালকরা। ঈদের এই খুশির দিনে সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ওই সব চালকদের ব্যস্ততা যেন কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈদ মানে খুশি ঈদ মানে আনন্দ। আর এই ঈদে বেশী ভাগ মানুষই আনন্দ উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে তাদের দিন অতিবাহিত হয়। কিন্তু অনেক মানুষ রয়েছে সেই আনন্দটুকু ভালো করে পরিবার পরিজন নিয়ে তারা উপভোগ করতে পারেন নি। পরিবারে অভাব গুছাতে ও কিছু বাড়তি আয়ের জন্য তাদেরকে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয়েছেন।

একাধিক চালকরা জানায়, ঈদের দিন রাস্তায় অন্যান্য দিনের চাইতে যানবাহন কম থাকায় তাদের কদর বেশী থাকে । পাশাপাশি আয় রোজগার ও ভালো হয়। কারণ এই দিনে অনেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে বাইরে বের হন। অনেকে প্রিয়জনতে সাথে নিয়ে রিকশায় ঘুরে আনন্দ উপভোগ করেন। তাদেরকে গন্ত্যব্যস্থানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন । তারা সকাল থেকে রাত পযর্ন্ত চলে তাদের রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন। অন্যান্য সময় যে গন্তব্য পৌঁছতে তাদেরকে যে ভাড়া দেওয়া হতো কিন্তু ঈদের দিন সেই ভাড়া অনেক বেড়ে যাওয়ায় তাদের আয় রোজগর ভালো হওয়ায় খুবই খুশি। তাই অনেকেই নামাজ আদায় শেষে যানবাহন নিয়ে বের হয়েছেন।

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় কথা হয় ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক মো. রনির সাথে সে বলেন, তার পরিবারে স্ত্রী, ১ মেয়ে , ১ মেয়ে,বাবাসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে। ঈদের নামাজ আদায় করে ঘর থেকে কিছু খাবার খেয়ে তিনি রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হন। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পযর্ন্ত চালিয়ে প্রায় ৪ শ টাকার উপর রোজগার করেন । তার ধারণা রাত পযর্ন্ত চালালে ৮শ টাকার উপর রোজগার করা সম্ভব বলে জানায়। যারা রিকশায় উঠছেন সবাই তাদেরকে অন্য সময়ের তুলনায় ভাড়া বেশী দিচ্ছেন ।

সিএনজি চালক মো. রফিক মিয়া বলেন, ঈদের এই খুশির দিনে সবাই চাই একটু আরাম আয়েশ করতে। কিন্তু অভাবের সংসার হওয়ায় ঘরে থাকা যেন মানায় না। তাই নামাজ শেষে কিছু খেয়ে সিএনজি নিয়ে বের হন । ঈদের দিন মানুষ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায়, আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাই তাই রিকশার কদর রয়েছে বেশ। সকাল থেকে দুপুর ১টা পযর্ন্ত ৬ শ টাকার উপর আয় হয় বলে জানায়। রাতে বাড়ি যেতে সন্তানদের জন্য ভালো কিছু খাবার কিনে নেব।

ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক মো. ফরিদ বলেন, তার সংসারে দুই ছেলে, ১ মেয়ে স্ত্রীসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে। এরমধ্যে এক ছেলে অসুস্থ। প্রতিমাসে ভালো টাকার ঔষধ লাগে। রিকশার চালানোর উপার্যন দিয়ে চলে তার সংসার। ঈদের দিন কেন রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন জানতে চাইলে বলেন, আসলে আমরা গরীব মানুষ। আমাদের আবার ঈদ কিসের। দিন দিন সংসারের খরচের পরিমান বেড়ে গেছে। তাই ঈদের দিন রিকশা নিয়ে বের হওয়া। ঈদের দিন বলে যাত্রীরা নির্ধারিত ভাড়ার চাইতে খুশি হয়ে বেশিই দেওয়ায় অনেক টাকা রোজগার হয়।

দুপুর ১টার দিকে সড়ক বাজার এলাকায় কথা হয় অটো রিকশা চালক বাবুলের সাথে। সে জানায়, অসুস্থ থাকায় বেশ কয়েক দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারিনি। আয় রোজি না থাকায় সবাইকে জামা কাপড় ও দিতে পারি নাই। তাই অটো রিকশা নিয়ে বের হওয়া। ‘ঈদের দিন রাত অবধি রিকশা চালিয়ে যা আয় হবে তা দিয়ে কাল ছেলেকে শার্ট কেনে দিব এবং ভালো কিছু খাবার কিনে নিবো।

রিকশা চালক তাজু মিয়া বলেন, সংসারে স্ত্রী ১ মেয়ে ১ ছেলেসহ ৪ জন সদস্য রয়েছে। রিকশা চালিয়ে তার চলতে হয়। ঈদের দিন ঘরে বসে না থেকে বাড়তি কিছু আয় করতে তিনি রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

যাত্রী মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি গত তিন মাস আগে বিয়ে করেছেন। ঈদ উপলক্ষে এই প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও বের হওয়া। তিনি বলেন অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটি অটো রিকশা পেয়েছেন। এই অটো রিকশা দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান।

গৃহিণী আয়েশা আক্তার বলেন, বোনের বাড়িতে বেড়ানোর জন্য ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে আসা। রিকশা কম থাকায় অনেক্ষণ দাড়িয়ে থেকে একটি অটো রিকশা পেয়েছেন বলে জানায়। তুলনামূলক ভাবে অন্য সময়ের চাইতে এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads