দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদ-উল ফিতর। ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর এই ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ধনী দরিদ্র সবাই যার যার মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সর্বশেষ ছোট বড় ধনী দরিদ্র সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ঈদ কেনাকাটায়। ঈদকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সর্বত্রই জমে উঠেছে কেনাকাটা । সাধ আর সাধ্যের মধ্যে ধনীদের পাশাপাশি নিম্নআয়ের লোকজনরাও চায় তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে এই ঈদে আনন্দ উপভোগ করতে। শত কষ্টের মাঝেও তারা চাই ঘরে ভাল খাবার খেতে, নতুন পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়ানোসহ আনন্দ উপভোগ করতে।
এদিকে পৌর এলাকায় খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের সাথে ঈদ উপভোগ নিয়ে কথা বলে জানা যায় তাদের আনন্দ উপভোগের নানা কথা।
পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, তার পরিবারে স্ত্রী,১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ ৪ জন সদস্য রয়েছে । সবজি বিক্রির আয় দিয়ে চলে তার সংসার। ঈদ প্রস্তুতি কেমন এবিষয় নিয়ে আবুল হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি একজন অসহায় গরিব মানুষ । সবজি বিক্রির আয় দিয়ে কোন রকম খেয়ে বেঁচে আছি। সামনে ঈদ থাকায় গত ১ মাস আগ থেকে কিছু টাকা করে জমিয়ে রেখে মেয়ের জন্য একটি জামা, ছেলের জন্য একটি শার্ট কেনা হয়। ভাবছি ঈদের আগের দিন স্ত্রীকে একটি শাড়ি কিনে দেব।
সড়ক বাজার এলাকায় হাওয়ায় মিঠাই বিক্রেতা মো. মোস্তাকিম বলেন, সে পৌর শহরের রাধানগর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে হাওয়ায় মিঠাই বিক্রি করছেন। তার পরিবারে মা,১ বোনসহ ৪ জন সদস্য রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ হলে ও এখানেই ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন। মোস্তাকিম আরো বলেন রমজান মাস হওয়ায় এমনিতেই বেচা কেনা অনেক কমে গেছে। তার উপরে রয়েছে করোনা আতংক। কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে সবার জন্য জামা কাপড় কিনতে না পারলেও অনেক কষ্ট করে জমানো টাকা দিয়ে মা’র জন্য ১টা শাড়ি কিনেছেন। এখন পযর্ন্ত নিজের জন্য কিছুই না কেনা হলেও চান রাতে বোনের জন্য জামা কিনে বাড়ি যাবে বলে জানায়।
সড়ক বাজার এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শহীদ বলেন, তার পরিবারে ৫ জন সদস্য রয়েছে। নিজস্ব কোন জায়গা নেই। ভাড়া বাড়িতে তারা থাকছেন। কলা বিক্রির আয় দিয়ে চলে সংসার। ঈদে কি কেনা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এমনিতেই সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ঈদে ছেলে ও মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে ফুটপাত থেকে শার্ট ও একটি জামা কেনা হয়। মনে চায় এই ঈদে পরিবারের সবাইকে কিছু দিতে। কিন্তু ইচ্ছে করলেই অর্থের অভাবে তা আর পারছিন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলীআজগর বলেন , সংসারে তার স্ত্রী ও ১ ছেলে রয়েছে। গ্রামে গ্রামে ফেরি করে নানা রকম পণ্য বিক্রি করে খরচ বাদে দৈনিক ৩ থেকে সাড়ে শত টাকার মত তার আয় হয়। এ ছাড়া নিদিষ্ট আর কোন আয়ের উৎস নেই। সামনে ঈদ থাকায় গত ১ মাস আগ থেকে কিছু টাকা জমা করে রেখেছেন। ওই টাকায় ছেলের জন্য পাঞ্জাবি ও স্ত্রীর জন্য একটি থ্রি পিছ কেনেন তিনি। তবে নিজের জন্য কেনা হবে না বলে জানায়।
ভ্রাম্যমাণ পান সিগারেট বিক্রেতা মো.রাকিব জানান, রোজা আসায় এমনিতেই ব্যবসা খারাপ। কারন দিনে খুব একটা পান-সিগারেট বিক্রি তেমন বিক্রি হয় না। তাছাড়া লকডাউন থাকায় রাত ৮ টার পর বাজারে কোন লোকজন না থাকায় বেচাকেনা ও নেই। সব মিলিয়ে কষ্টে থাকলে মার জন্য একটা শাড়ি দোকানে দেখে এসেছেন। বাড়ি যাওয়ার সময় কেনা হবে বলে সে জানায়।
ঈদে সাধ আর সাধ্যের টানা পড়েনের হিসাব কষছেন রিকশা চালক হোসেন মিয়া। বিপদ আপদের জন্য দৈনিক কিছু না কিছু টাকা জমিয়ে রাখায় এই ঈদে সে টাকা দিয়ে ১ ছেলে ও ১ মেয়ের জন্য ফুটপাত থেকে জামা কেনেন তিনি। তাছাড়া ঈদের একদিন আগে সেমাই, চিনি কেনা হবে বলে জানায়।
এদিকে ঈদ পোশাক আর সেমাই কিনতে দুশ্চিন্তায় আছেন পুরনো কাগজ বিক্রেতা সাত্তার মিয়া। হাতে তেমন টাকা পয়না নেই । ঈদে ছেলে মেয়েরা নতুন জামা কাপড় ও সেমাই খেতে পারবেতো এ চিন্তাতেই তিনি অস্থির হয়ে আছেন। তবে চান রাতে আর যাই হওক ছেলের জন্য শার্ট কিনতে চান তিনি।
নিম্ম ও মধ্যবিত্ত জীবনে সাধও সাধ্যের মধ্যে ব্যবধান গুছানো খুবই দু:সাধ্য। তবুও তারা সাধ্যের মধ্যে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে ছুটছেন। বছরের প্রধান উৎসাহ মাহে রমজানের শেষে আনন্দের ঈদকে বরন করার জন্য ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে কারোরই আগ্রহ উৎসাহের কমতি থাকে না। স্বল্প আয়ের লোকদের মনে থাকে নানা দুশ্চিন্তা। তারপরও ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে চেষ্টার ত্রুটি নেই। তারা সাধ্যনুযায়ী চেষ্ট করছেন পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটাতে।





