ঈদকে সামনে রেখে কেনাকাটার ধুম পড়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে । ঈদের আমেজে যেনো সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ । পৌর শহরের বাজারগুলোতে প্রতিদিনই হাজারো মানুষ সমাগম হয়ে একত্রে বাজার করা চিত্র দেখা মিলছে প্রতিদিনই । যাদের মাঝে বেশিরভাগই করোনা থেকে বাঁচতে মাক্স কিংবা হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করছে না ।
বিশেষ করে মধ্য বাজার, কালী বাড়ী মোড়, তেরি বাজার, পশ্চিম গলি সহ কাপড়ের দোকানগুলোতে যেন তিল থাকার জায়গা নেই । আর এইসব দোকানে বেশি ভিড় জমাচ্ছে গ্রামের নারীরা । সকাল থেকেই দোকানে গুলোতে কেনাকাটা জন্য আসতে শুরু করে গ্রামের নারী-পুরুষ সহ ছোট-বড় সকলেই । তবে এই দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে পৌরশহরের সাধারণ বাসিন্দারা ।
সরকারী সিদ্ধান্তে দোকান পাট খুলে দেয়ার পর থেকেই দুর্গাপুর পরিনত হয়েছে জনস্রোতে। পুলিশের বাধাও মানছেনা বাজারে আসা এসকল মানুষ। যতক্ষণ টহল থাকে ততক্ষণ সড়ক পরিস্কার থাকে। স্বেচ্ছসেবকরাও অপারগতা প্রকাশ করছেন।
এদিকে গত কয়েক মাস জেলার একমাত্র করোনা মুক্ত উপজেলা থাকলেও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঢাকা ফেরত তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে এই উপজেলায় । এমন অবস্থায় মানুষের মাঝে নেই বিন্দু পরিমাণ ও সচেতনতা উল্টো ঈদকে সামনে রেখে বেড়ে গেছে তাদের উৎসবের আমেজ ।
প্রতিদিনই পৌর শহরের প্রায় চার শতাধিক দোকানে কয়েক হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য থেকে শুরু করে জামা কাপড় জুতা সহ কসমেটিকস কিনতে ভিড় জমাচ্ছে তারা । ঝুঁকিপূর্ণ এই সময়ে বাজারগুলোতে শত শত মানুষের সমাগম কে ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা ।
ক্রেতা জানায়, সামনে যেহেতু ঈদ তাই পরিবারের সদস্যদের কথা মাথায় রেখে বাজারে এসেছে তাদের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে । তবে এখন সারাদেশে কর্ণার প্রকোপ চলছে আমরা চেষ্টা করছি সামাজিক দ্রুত নিশ্চিত করে কেনাকাটা করার
স্থানীয় ব্যবসায়ী জানায়, আমাদের অনেক মাল ঈদের জন্য কেনা হয়েছে আমরা যদি এগুলো বিক্রি না করতে পারি তাহলে পথে বসে হবে । আমার যতটুকু পারছি সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করছি ।
এই দিকে বাজারগুলোতে মানুষের একত্রে জমায়েত হওয়া ভবিষ্যতের জন্য অনেকটা ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে মনে করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার তানজিরুল ইসলাম।
তিনি জানান, দুর্গাপুরে এখনো করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে; তবে মানুষ যেভাবে কেনাকাটা করছে তা দেখে মনে হয় করোনা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে । আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাতে করে নতুন করে কেউ আর করোনা ভাইরাস আক্রান্ত না হয় । কিন্তু মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে আমাদের এই চেষ্টা বৃথা যাবে ।





