ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে খামার ও ব্যক্তি পর্যায়ে গবাদি পশু ও ছাগল ভেড়া মিলিয়ে ১৭ হাজার পশু বাজারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জে ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত গবাদি পশুর খামার রয়েছে ২শ ৭৮টি। সংশ্লিষ্ট খামারগুলোতে ও ব্যক্তি পর্যায়ে বাণিজ্যিক ভাবে কোরবানির জন্য ছয় হাজার ৮শ গবাদি পশু লালন পালন করা হচ্ছে। এ উপজেলায় কোরবানির জন্য মোটাতাজা করণকৃত পশুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫হাজার ৮শ ২০টি। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯শ ৮০টি গবাদি পশু বেশি রয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, পবিত্র কোরবানির ঈদে কৃত্রিম খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে গবাদি পশু মোটাতাজা করণের জন্য উপজেলার ৬শ ৬০জন খামারিকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে গবাদি পশু হৃষ্টপুষ্ট করণ ও ঘাস চাষ সম্পর্কে কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক করছেন মাঠ সম্প্রসারণ কর্মীরা।
প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানায়, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত গবাদি পশুর মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এ উপজেলায় মোট গবাদি পশুর সংখ্যা হচ্ছে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯শ ৪০টি। তন্মধ্যে কোরবানির জন্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে এমন পশুর সংখ্যা হচ্ছে প্রায় ৯৫হাজার। অপরদিকে এবার ঈদে ছাগল ভেড়ার চাহিদা রয়েছে ৬হাজার ৫শ টি। কিন্তু খামার ও ব্যক্তি পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে লালন-পালন করা হচ্ছে ১০ হাজার ১শ ৯৮টি। যা লক্ষ মাত্রার চেয়ে ৩হাজার ৬শ ৯৮টি বেশি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী উপজেলায় মোট ছাগল ও বেড়ার সংখ্যা হচ্ছে ৪৫ হাজার ৭শ ৭৬টি। যা থেকে সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদা মিটিয়েও বিপুল সংখ্যক ছাগল ভেড়া উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এবার গো খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে খামারিরা খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন গবাদি পশু পালনে সফল উদ্যোক্তা এম এ বাশার। স্টার অ্যাগ্রো নামে উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে তার একটি বিশাল গো-খামার রয়েছে। এবছর তিনি সেই খামার থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার গবাদি পশু বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার খামারে আরো ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি ষাঁড় গরু রয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদে এই গরুগুলোও বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন। গরুগুলো বিক্রি হলে খরচ বাদে তার প্রায় চার লক্ষ টাকা লাভ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।





