উখিয়ায় বনভূমিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

লণ্ডাখালী বনভূমিতে নবনির্মিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

উখিয়ায় বনভূমিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনা

  • মাহমুদুল হক বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২ জুলাই, ২০১৯

উখিয়ার থাইংখালী ১৯নং ক্যাম্প সংলগ্ন লন্ডাখালীর বনভূমির বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নির্মাণের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের ভোগ দখলীয় ও বাগান উচ্ছেদ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান বলছেন, বির্তকিত ওই ক্যাম্প নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন ঘটনাস্থল লন্ডাখালী এলাকা দিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪ শতাধিক বাড়ীঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী আবুল আজম (৪৫), সুরুত আলম (৩৫), সুজন (১৮) ও মাহবুবুল আলমসহ (২৫)একাধিক লোকজন অভিযোগ করে জানান, এনজিও সংস্থা একতা ও মুসলিম হ্যান্ডস প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় শতাধিক পরিবারে শত বছরের ভোগ দখলীয় ফলজ, বনজ বাগান উচ্ছেদ করে সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, কতিপয় এনজিও সংস্থা নিজেদের আখের গোছানোর জন্য প্রত্যাবাসন ও ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বণ করে বাধা দিতে চাইছে।তারা ইন্ধন যোগাচ্ছে রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে ফিরে না যায়। পাশাপাশি নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যাতে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ওইসব এনজিওগুলো দীর্ঘ সময় দাতা সংস্থা দেওয়া অর্থ লুটপাট করতে পারে।

তিনি বলেন, লন্ডাখালী এলাকায় নতুন করে ক্যাম্প নির্মাণ করা হলে স্থানীয় জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ নং ক্যাম্প ইনচার্জ আবু ওয়াহাব রাশেদ জানান, ক্যাম্পে যাতায়াত সুবিধার উন্নয়নের জন্য এডিবি সড়ক নির্মাণ করলে অসংখ্য বাড়ীঘর সরিয়ে নিতে হবে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন করে বাড়ীঘর তৈরি করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় বাগানের ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন, সেখানে আগের কোনো প্রকার স্থাপনা বা বাগানের অস্তিত্ব বলতে কিছুই ছিল না। সম্পূর্ণ একটি পরিত্যক্ত বনভূমিতে এ বাড়ীগুলো নিমার্ণ করা হয়েছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের অপেক্ষা আছে। এরই মধ্যে এডিবি ও বিশ্বব্যাংক ক্যাম্পে উন্নয়ন কাজ করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন করে বাড়ীঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এদেশে নতুন করে আর কোনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ক্যাম্প নিয়ে কিছু করলে এনজিওরা তাকে জানায় না। তাই ১৯ নং ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় নতুন করে ক্যাম্প নির্মাণের ব্যাপারে তার জানার কথা নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads