তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী প্রতিনিধি:
উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে নীলফামারী জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের মোড়লের ডাঙ্গায় অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদটি।
এলাকাবাসীর কাঙ্কিত মসজিদটি ইতোমধ্যে নির্মাণের সব কাজ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রæয়ারী মসজিদটি উদ্বোধন করা হবে। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর চুক্তিমূল্য ছিল ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা।
মসজিদটি ঘুরে দেখা যায়, প্রথম তলায় ঈমামদের প্রশিক্ষন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধিদের নামাজের জায়গা (অটিজম কর্নার) জানাজার নামাজের ব্যবস্থা, মৃত দেহের গোসল ও কাপনের ব্যবস্থা, ইসলামিক লাইব্রেরী ও গাড়ী পাকিং জোন।
দ্ধিতীয় তলায় থাকছে ইসলামিক রির্সাস সেন্টার ও পুরুষদের নামাজের কক্ষ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাজাম, বৈদ্যাতিক সার্পোট হাই পাওয়ার, হাই পাওয়ার জেনারেটর, ফায়ার এর্লাম সিষ্টেম, ফায়ার ডোড়, সাউন্ড প্রæপ দরজা।
তৃতীয় তলায় রয়েছে, মহিলাদের নামাজের সুব্যবস্থা, লাইব্রেরী, রিসার্চ সেন্টার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র ও নানামুখি ব্যবস্থা।
চতুর্থ তলায় রয়েছে, হেফজো খানা, পরিদর্শন বাংলো (অতিথি শালা)। এছাড়াও নামাজের কক্ষ ও কনফারেন্স হলে শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিন ব্যবস্থা, মহিলা ও পুরুষদের পৃথক ওজুখানা ও ওয়াস রুম, লিপ্ট, জরুরী বহিরাগমন ব্যবস্থা, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, রাতে মসজিদের মিনারে থাকবে ঝাড়বাতি ও স্থায়ী আলোক সজ্জা, নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ফায়ার এর্লাম সিষ্টেম, ফায়ার ডোড়, সাউন্ড প্রæপ দরজা, সোলার প্যানেল, ওয়াটার রির্জাভার, গ্রীজার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও কারুকার্য খচিত সুউচ্চ মিনার।
এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবেন প্রায় এক হাজার ২০০ মুসল্লি। এ নয়নাভিরাম মসজিদটি নির্মাণশৈলীতে যে কেউ মুগ্ধ হবেন। এটি জেলার সৈয়দপুর শহরের ব্রিট্রিশদের তৈরী চিনি মসজিদের পর দ্ধিতীয় স্থাপনা।
সুত্র জানায়, নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের ভৌত অবকাঠামো বাস্তবায়ন করছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর এটি বাস্তবায়ন করছেন জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি নির্মাণ করছেন জেলা শহরের এম আর আর কনস্ট্রাকশন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান ছোট ডাবুল জানান, কাজটির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ জুন। কিন্ত আমরা সকলের সহযোগিতায় নির্ধারিত মেয়াদের আগেই হস্তান্তর করতে পেরে খুবই আনন্দিত।
২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়। ৪৩ শতক জমির ওপর ১৬ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে মডেল মসজিদটি। চারতলা এ মসজিদটির দৈর্ঘ ১৭০ ফিট ও প্রস্থে রয়েছে ১১০ ফিট। এতে এক হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে।
মসজিদ এলাকার বাসিন্দা আবুল কাশেম, ইসলাম উদ্দিন বলেন, এ জেলায় এটিই প্রথম দৃষ্টিনন্দন একটি মসজিদ। মসজিদটি আমাদের গ্রামে হবে ভাবিনি। প্রতিদিন দেখতে আসি। প্রায় পাঁচ ধরে নির্মাণ কাজ চলছে। এখন প্রায় কাজ শেষ। অপেক্ষা করছি কবে মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারবো। একই এলাকার আবু হানিফ জানায়, এ মসজিদটি পর্যটন শিল্পেও অনেক গুরুত্ব বহন করবে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ মসজিদটি দেখতে আসছে। আশেপাশের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্যসহ সামাজিক উন্নতি হয়েছে।
জেলা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌহিদূজ্জামান জানান, ৪৩ শতক জমির উপর ১৬ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে সরকার গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগের অধীনে মডেল মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারী উদ্বোধন করা হবে। এসময় সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর মহোদয়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মডেল মসজিদ নির্মাণ করছেন। তারই প্রেক্ষিতে জেলা সদরের মোড়লের ডাঙ্গায় দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ ফেব্রæয়ারী উদ্ধোধন করা হবে। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের বাকী মসজিদ গুলোর কাজ শেষ করতে পারবো আমরা।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে জেলা-উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের জন্য ৮ হাজার ৭২২ কেটি টাকা অনুমোদিত হয়। এতে সৌদি সরকার অর্থায়নের প্রস্তাব করলেও শেষ পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়নি। পদ্মা সেতুর পর সরকার বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে তা বাস্তবায়ন করছে।





