উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার নীলনকশা

অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩)

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যাচেষ্টা

উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার নীলনকশা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ৮ নভেম্বর, ২০২১

আবাসন ব্যবসায়ীরা অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছেন। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আবাসন খাতের অবদানও ঊর্ধ্বগামী। আবাসন শিল্প ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে এনে দিয়েছে ব্যাপক পরিবর্তন। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল অর্থনীতি ও উন্নয়ন-অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা।  

তারা বলেন, রাজধানীর যত সৌন্দর্য্য চোখে পড়ে, তার ৯০ শতাংশ আবাসন ব্যবসায়ীদের তৈরি। আর বাকি ১০ শতাংশ সরকার ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয়েছে। এরমধ্যে আবাসনসহ দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবৎ বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টায় উদ্বিগ্ন তারা। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, যারা সমাজে অবদান রেখে চলেছেন তাদের যদি হয়রানি করা হয়, তাহলে অন্য ব্যবসায়ীরাও নেতিবাচক বার্তা পান। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের খুনের পরিকল্পনা করা হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা।

উদ্যোক্তাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে উল্লেখ করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) সভাপতি হুমায়ুন রশীদ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমরা চাই ব্যবসায়ীরা যেন সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা করেন। তা হলেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বসুন্ধরা দেশে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। সুতরাং সরকারের কর্তব্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা বর্তমান এবং ভবিষ্যতের বিনিয়োগে আতঙ্কিত না হন। যে কোনো বিনিয়োগকারীর কোনো সমস্যা হলে তা যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা উচিত বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে হত্যার এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ১/১১-এর জরুরি সময়ে কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছিল না, কিন্তু এখন আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সে অনুযায়ী সঠিকভাবে কাজ করছে। তাই আমরা চাই প্রকৃত ঘটনায় অপরাধীর শাস্তি হোক।

এ প্রসঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) প্রথম সহসভাপতি কামাল মাহমুদ বলেন, এ কুচক্রী মহল যে-ই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, উদ্বেগজনক ঘটনা। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো একটি শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের এমডিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা মানেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা। যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন, দেশের মানুষের কর্মসংস্থান করছেন, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখছেন তাদের হত্যার পরিকল্পনা করা খুবই দুঃসাহসিক কাজ। এটা যারা করেছে তারা নিশ্চয়ই কোনো না কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহূত হচ্ছে। আর এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে দেশের আর্থিক খাত। বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের ঘটনায় আমরা ব্যবসায়ী সমাজ বিস্মিত, ক্ষুব্ধ, উদ্বিগ্ন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) মহাসচিব মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। দেশের বড় গ্রুপগুলো নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে চেষ্টা করছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির। কিন্তু ক্রমেই তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা কমে যাচ্ছে। সব পক্ষ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। পদে পদে তাদের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। সম্মান নিয়ে চলার জন্য সব জায়গায় আপস করে চলতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মর্যাদা বিবেচনা না করে কখন কে কোন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে দেবে এ নিয়েই উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সামাজিকভাবে হেয় করা, গ্রেপ্তার করা, জেলে দেওয়ার ঘটনা অহরহ হচ্ছে।

এই উদ্যোক্তা বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়ববদ্ধতা থেকে ব্যবসায়ীরা সব সময় দেশে বিনিয়োগ করতে চান। অনেক ব্যবসায়ী এমন অপমানের ভয়ে দেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। দেশে বিনিয়োগও করছেন না, দেশে থাকতে চাচ্ছেন না। নিরাপত্তাহীন, সম্মানহীন ও মূল্যায়নহীন সমাজে বসবাস করতে চাইলেও মর্যাদা পাবেন না-এমন আশঙ্কা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতির যদি অবসান না হয় তাহলে আমাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়, যেহেতু তারা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। সামাজিকভাবে ব্যবসায়ীদের সম্মানিত করা হয়। কিন্তু দেশে বিশেষভাবে যারা অনুগ্রহ প্রাপ্ত তারা ছাড়া প্রকৃত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি নেই। বিএলডিএ মহাসচিব আরো বলেন, কেউ যদি আইন ভঙ্গ করে তার আইনের আওতায় বিচার হবে। কিন্তু স্পষ্টত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কাউকে ফাঁসালে সেখানে কেন প্রটেকশন পাওয়া যাবে না। সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী যারা সমাজে অবদান রেখে চলেছেন তাদের যদি হয়রানি করা হয়, তাহলে অন্য ব্যবসায়ীরাও নেতিবাচক বার্তা পান। এ পরিস্থিতি যদি সরকারের সংশ্লিষ্ট ও সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গভীরভাবে না দেখা হয়, তাহলে দেশের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোনো কিছুর পরিণতি শুভ হবে না।

প্রসঙ্গত বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার (০৫ নভেম্বর)  জুমার নামাজের সময় আনভীরকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করেছে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযোগটি তদন্ত করছেন ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা হাসান মাসুদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ জানিয়েছে, শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ চলাকালে সায়েম সোবহান আনভীরকে গুলি করে হত্যার প্রস্তুতি ছিল তার। পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর নির্দেশে হত্যার এ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর আগে, দুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল সংঘবদ্ধ চক্রটি। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় তারা।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads