এবার স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোর দেবে সরকার

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

এবার স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জোর দেবে সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ মে, ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হবে আগামীকাল রোববার মধ্যরাতে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি এখনো বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করেনি। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, এবার বিধিনিষেধের মেয়াদ আর বাড়ছে না। তবে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানানোর ওপর জোর দেবে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ যেহেতু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, তাই এখন স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিলেই সামনের দিনগুলোতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভবনা থাকবে না। এভাবেই চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তার পরও সবকিছু রোববারের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। নতুন করে বিধিনিষেধ দেওয়া না হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ কিছু নির্দেশনা দিয়ে এদিন প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে। তবে সরকার যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়, তাহলে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরো এক সপ্তাহ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ভার্চুয়াল সভা হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। সভায় বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সুপারিশ করা হয়নি।

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লা গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৮ মে আমরা যেসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছি, এর পর আর কোনো আপডেট নেই, এর পর আর কোনো মিটিংও হয়নি। এখন আমাদের মূল ফোকাস দুটি জায়গায়- একটি হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নেওয়া। অন্যদেরও সহকারকে সহযোগিতা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বিপদ আছে। তিনি আরো বলেন, বিধিনিষেধ ভালো কিন্তু বিধিনিষেধের একটি সীমাবদ্ধতা আছে যে, একটি সার্টেন টাইম পর কন্টিনিউ করতে গেলে মানুষের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সে জন্য যখন সংক্রমণ খুব দ্রুত বাড়বে তখন হার্ডব্রেক হিসেবে লকডাউন দিতে হবে। আর লকডাউনের ফলাফল যখন পাবো, যেমন আমরা পেয়েছি- এখন মূলত ফোকাস করতে হবে স্বাস্থ্যবিধির ওপরে। এর বিকল্প কিছু নেই।

অধ্যাপক শহিদুল্লা বলেন, আর দ্বিতীয় হলো টিকা কীভাবে আরো বিভিন্ন সোর্স থেকে এনে টার্গেট পপুলেশন যে ১২ কোটি নির্ধারণ করেছি, তাদের সেটা দেওয়া নিশ্চিত করা। অর্থাৎ একটা হলো স্বাস্থ্যবিধি, আরেকটা হলো টিকা। ঈদের সময়ের পরিস্থিতির কারণে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাটা এখনো আছে। এই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে পুরো জুন মাসই ঝুঁকির মধ্যে আছি আমরা।

লকডাউন বা বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো প্রয়োজন মনে করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা সরকার বুঝবে। যত ঢিলেঢালাই হোক লকডাউনের একটা বেনিফিট আছে। এ সময়ে মানুষের গ্যাদারিং হয় এমন অনুষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকে, যেগুলো ইনফেকশনের বড় বড় সোর্স। সরকার যদি অ্যাফোর্ড করতে পারে লকডাউন আরো এক-দুই সপ্তাহ বাড়াতে পারে, সেটা খারাপ হবে না, এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা কম। রোববারের মধ্যে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হতে পারে। এদিন সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

জানা গেছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়। বিধিনিষেধের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। পরে চার দফা বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হয়, নির্দেশনাতেও আসে সংশোধনী। বিধিনিষেধের সর্বশেষ মেয়াদ শেষ হবে রোববার মধ্যরাতে।

গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, করোনাভাইরাসে দেশে গত এক দিনে নতুন করে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হন এক হাজার ৫০৪ জন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads