লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স। গাড়িটিতে কাফনের কাপড়ে মোড়ানো চারটি মৃতদেহ সদৃশ্য কিছু! সেগুলো খোলার পরই সবার চোখ যেন চড়কগাছ। মৃতদেহ সদৃশ্য কফিন চারটি খুলতেই পাওয়া গেল দুই হাজার ফেনিসিডিল। লাশ পরিবহনের আড়ালে অভিনব পদ্ধতিতে মাদক চোরাকারবারের সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতেনাতে ধরা পড়েন চারজন।
গত রোববার রাতে রাজধানীর শাহবাগের গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মাহাবুবুল হাসান, হাসানুর রহমান সবুজ, মো. সোহেল মিয়া এমিল ও রোমন।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি করে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো ফেনসিডিলভর্তি বস্তা উদ্ধার করা হয়। মাদক কারবারি কৌশল হিসেবে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে লাশের আদলে ফেনসিডিল বহন করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে যাত্রী সেজে লাশের গাড়ির পেছনে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কুমিল্লা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে ফেনসিডিল এনে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে। এই চালানটি এনেছিল কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে।
তিনি বলেন, এই চক্রের ‘হোতা’ এমিলি, তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। আর লাশবাহী গাড়িটি চালিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান। এ চক্রের সবাই একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছে এবং জেলে গিয়েছে। জেল থেকে বের হয়ে আবার সেই মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পড়ছে। ডিবির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহবুবুল আলম জানান, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে তারা মাদকের চোরাচালান করছিল। বিশেষ কৌশল হিসেবেই তারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশের আদলে ফেনসিডিলের চালান আনা-নেওয়া করত। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতেই তারা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করত। আর লাশবাহী গাড়িটিকে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস যাত্রী সেজে পেছন দিয়ে অনুসরণ করছিল।
মাহবুবুল আলম বলেন, আমাদের কাছে খবর ছিল কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী কৌশল হিসেবে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশের আদলে ফেনসিডিল বহন করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে যাত্রী সেজে লাশবাহী গাড়ির পেছনে আসছেন। এমন খবরের ভিত্তিতে গত রোববার দুপুরের দিকে শাহবাগ থানার গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে অভিযান চালানো হয়। পরে লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স তল্লাশি করে সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়ানো দুই হাজার বোতল ফেনসিডিলভর্তি বস্তা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ততথ্যের বরাতে তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে এ রকম অভিনব কায়দায় কুমিল্লা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহ করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর ফেনসিডিলগুলো সুযোগ বুঝে তারা শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন।





