সারা দেশ

কয়রায় তীব্র তাপদাহে অস্বস্তিতে জনজীবন: বৃষ্টি প্রার্থণায় ইস্তিসকার নামাজ

  • ''
  • প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল, ২০২৪

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:

ইতিমধ্যে দেশে জারি করা হয়েছে হিট এলার্ট। চলছে সূর্যের চোখ রাঙানি। তীব্র তাপদাহের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। অতি গরমে দিশেহারা নিম্ন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষরা। চৈত্রের তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে কয়রার সাধারণ মানুষসহ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জনজীবন।

গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপদাহে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে প্রাণিকুল।

বাতাসে যে পরিমাণ হলে বৃষ্টি হয় সে পরিমাণ জলীয়বাষ্প নেই। এতে চৈত্র মাসে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা সে পরিমাণ হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রচন্ড তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে রোধের প্রখর তাপ অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন তেলেশমাতি মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগের নতুন মাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। প্রচন্ড রোদের গরমে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষরা জীবিকা নির্বাহের জন্য রাস্তায় বের হতে পারেনা। দুপুর হলে রাস্তাঘাটে লোকজনের সংখ্যা একেবারে কমে যায়। তীব্র গরমের কারণে দিনমজুর শ্রমিকরাও সহজে কাজে যেতে চায়না। এদিকে, তাপপ্রবাহে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। প্রখর রোদের মধ্যে বাইরে বের হচ্ছে ছাতা নিয়ে। শ্রমিকদের তীব্র রোদে গামছা মাথায় দিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে।

কয়রা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল বিল ও নদী নালাতেও পানি নেই, রৌদ্রের খরাতাপ আর খা খা মাঠ। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন মানুষজন। গরমে মানুষ, পশু- পাখিসহ সব প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রকৃতিতে সুনসান নীরবতা। নড়ছে না গাছের পাতাও। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মহীন করে তুলছে শ্রমজীবী মানুষদের। প্রকৃতির এই পরিবর্তনে অস্বস্তিতে কয়রা উপজেলার সাধারণ মানুষের জনজীবন।

এদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে। শিশু এবং বয়স্ক মানুষের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষ করে এই সময় কলেরা, ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক হতে পারে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। গরম বাড়লে ডায়রিয়া-টাইফয়েডের মতো রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের ভ্যান চালক ওলিউল্লাহ সাব্বির, ইয়াসিন জানান, সংসারের অভাব মোচনে বাধ্য হয়েই এই গরমে বের হতে হচ্ছে। তবে প্যাসেঞ্জার খুবই কম। এসময় বৃষ্টি হলে তীব্র তাপদাহ কমে যেত বলে আশা প্রকাশ করেন ।

তাপদাহে স্বস্তির নিশ্বাস পেতে গতকাল সকাল ৯ টায় কয়রা উপজেলা ইমাম পরিষদের আয়োজনে মসজিদ আবুবকর সংলগ্ন মদিনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এবং উপজেলার বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে খোলা আকাশের নিচে সালাতুল ইস্তিসকার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ এ নামাজে উপজেলার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা অংশগ্রহণ করেন। এবং নামাজ শেষে অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি পেতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads