ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কুমিল্লা সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া আফজল খান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী মানছুরা আক্তার। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্কুল বন্ধ থাকার সময় স্কুলের কাউকে না জানিয়েই প্যারা মেডিকেলের এক ডাক্তারের সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে তার পরিবার। মানছুরার বাবা পাঁচথুবী গ্রামের বাসিন্দা মালদ্বীপ প্রবাসী শাহীন আহমেদ করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে দেশে ফিরে আসেন বাধ্য হয়েই, এসেই বিয়ে দেন মেয়ের। মানছুরার মা সুমি আক্তার মানছুরার বাবা বিদেশ থেকে ফেরার পর মেয়ের বিয়ে দেন। করোনায় আমরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। একটা ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি আর একটা মেয়েকে এসএসসি পাশ করিয়েছি। মানছুরার স্বামী চাইলে সে পড়াশুনা চালিয়ে যাবে নাইলে কিছু করার নেই।
মেয়েদের এই স্কুলটির অন্তত ১০ জন ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর। এর মধ্যে ৮ম শ্রেণীর ১ জন , নবম শ্রেণীর ২ জন এবং দশম শ্রেণীর ৭জনের তথ্য পাওয়া গেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন পর্যালোচনা করে খোঁজ নিলেই মূল তথ্য বের হবে বলে জানান তারা।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষিকা জ্যোৎস্না আক্তার খানম জানান, অনলাইন ক্লাসের জন্য ছাত্রীদের ফোন করে জানানোর সময় এসব তথ্য পাই। অন্যসময় আমরা প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে পারি। কিন্তু করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সাথে আমরা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। প্রত্যন্ত এলাকার স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর ঝোঁকই থাকে মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেয়ার, অনেক সময় স্কুলের শিক্ষক বা বন্ধুবান্ধবের নজরদারির কারনে তা হয় না। কিন্তু করোনায় এমন বিচ্ছিন্নতার কারনেই এসব ঘটনা।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল মজিদ জানান, অন্যবছরের তুলনায় এবছর স্কুল পড়ুয়াদের বিয়ের ঘটনা বেশি। বিশেষ করে করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার কারণে আমরা এসব বিষয় খেয়াল রাখতে পারিনি। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলোতেই স্কুল পড়ুয়াদের বিয়ের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। তারা আর স্কুলে ফিরবে কি না তা নিয়ে আশংকাও রয়েছে। তবে কি পরিমান শিক্ষার্থী ঝরে পরছে তা স্কুল খুললেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আমরা খবর পেলেই প্রশাসনের সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে রোধ করি। কিন্তু এবার অভিভাবক সমাবেশ হয়নি, পরীক্ষাও হয় নি, সঠিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয়নি বলেই এমনটা ঘটছে।
কুমিল্লা নবাব ফয়জুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার জানান, স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বিয়ে বা বাল্য বিয়ে রোধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন জনপ্রতিনিধি এবং সুধীসমাজ। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারনে যেহেতু স্কুল বন্ধ এসব বিয়ের ব্যাপারে স্কুল বা প্রশাসনকে যদি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বা মেম্বাররা জানান তাহলে এসব রোধ হবে। তবে আমাদের উচিত তাদের আবার স্কুলে ফেরানোর চেষ্টা করা।
কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া আফরিন জানান, বাল্যবিবাহের বিষয়ে আমরা সবসময় সচেতন আছি এবং খবর পেলেই তা বন্ধ করছি। এখন কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে তাহলে আমরা তা যাচাই করে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো।





