করোনাভাইরাসে চীনে ঠিক কতজনের মৃত্যু ও কতজন আক্রান্ত হয়েছে তা নিয়ে শুরু থেকেই বেইজিং ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। করোনায় চীনে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৬৩ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ২৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে দাবি করছে বিভিন্ন মহল। তবে চীনের উহান শহরের সঙ্গে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে কারো দাবিই যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। খবর : বিবিসি ও আলজাজিরার।
গত বুধবার ভাইরাসে আক্রান্ত আরো ৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৩ জনে। অধিকাংশ মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে হুবেই প্রদেশে, যেখানকার উহান শহরকে এ ভাইরাসের উৎসস্থল বলা হচ্ছে। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে চীনের বেশ কয়েকটি শহর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার লোককে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে।
তবে ১ ফেব্রুয়ারি চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট থেকে ফাঁস হওয়া সাম্প্রতিক এক তথ্য মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ হাজার ৫৮৯ জনের। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৩ জন, যা সরকারি তথ্যের চেয়ে দশগুণ বেশি। টেনসেন্টের ওয়েবপেজে মহামারী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শিরোনামে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। যদিও এ সময় সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছিল ৩০০। তবে কিছুক্ষণ পরই টেনসেন্ট তাদের তথ্য সংশোধন করে নেয়।
সংশোধনের পর সেখানে সরকারি হিসাব ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। উহান থেকে ছড়িয়ে যাওয়া করোনাভাইরাস বিষয়ে চীনা সরকারের পরিসংখ্যান নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে টেনসেন্টের এ পরিসংখ্যান চীনা কর্তৃপক্ষকে বেশ বেকায়দায় ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। যদিও কারো কারো মতে, কোডিং সমস্যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। আবার অনেকে বলছেন, কেউ না কেউ পেছন থেকে কাজ করেছেন যেন করোনাভাইরাসে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, উহানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অনেকেই চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের বাইরে অনেকের মৃত্যু হচ্ছে।
চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে ফিলিপাইনে এবং চীনশাসিত হংকংয়ে আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনই উহান থেকে ঘুরে আসার পর আক্রান্ত হন। চীনের হিসাবে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মারা যাওয়াদের মধ্যে ৪০০ জনই উহানে। শহরটি থেকে কয়েক হাজার বিদেশিকে সরিয়ে নেওয়ার পর তাদের নিজ নিজ দেশে কোয়ারেন্টিন করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে ও হংকং বন্দরে দুটি প্রমোদতরীর কয়েক হাজার যাত্রী ও ক্রুকে পর্যবেক্ষণের জন্য জাহাজেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ইয়োকোহামা বন্দরে পৃথক অবস্থায় রাখা প্রমোদতরীটির আরো ১০ যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে বলে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এদের নিয়ে প্রমোদতরীটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। গত মাসের শেষ দিকে হংকংয়ের ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রমোদতরীটিতে ভ্রমণ করে যাওয়ার পর তার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর থেকে জাহাজটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ আরোহীকে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে এবং তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ পৃথক অবস্থায় পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। হংকংয়ে নোঙর করা প্রমোদতরীটির তিন জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ৩ হাজার ৬০০ যাত্রী ও ক্রুকে জাহাজেই অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।





