নেত্রকোনার কলমাকান্দায় হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অসুস্থ গৃহবধূ নাজমা বেগম এখন মৃত্যুপথযাত্রী। তার চিকিৎসা ও জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ নাজমার অবস্থা অবনতি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশেক উল্লাহ খান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন ।
হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল নাজমার অসুস্থতা দেখা দেয়। পরে উপজেলা সদরের ড্রেইনপাড় এলাকায় মিম মেডিকেল হলের মালিক পল্লী চিকিৎসক মো. শহীদ মিয়ার কাছে যান ওই গৃহবধূর স্বামী মো. সাজল মিয়া। ওই চিকিৎসকের নিকট বিস্তারিত খুলে বলেন নাজমা বেগমের স্বামী। এর পর ফামের্সীর চিকিৎসক হাসপাতালে ভর্তি পরামর্শ না দিয়ে নিজেই চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেন। তার ফামের্সি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী আরেক পল্লী চিকিৎসক মো. আলী আজগর ওই গৃহবধূ নাজমার শরীরে গ্লুকোজ ৫% স্যালাইন ও অন্যান্য ইনজেকশন দিয়ে পুশ করেন। এরপর ওই গৃহবধূ অবস্থা বেগতিক দেখে ওই দিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন পরিবারের লোকজন। শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ নাজমার অবস্থা আরো অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশেক উল্লাহ খান।
এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশেক উল্লাহ খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই গৃহবধূ নাজমার শরীরে যে গ্লুকোজ ৫% স্যালাইনটি পুশ করেছে পল্লী চিকিৎসক সেই স্যালাইনটি মেয়াদ ছিল আগস্ট ১৮ পর্যন্ত। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই স্যালাইন পুশ করার কারণে ওই গৃহবধূ নাজমা বেগমের অবস্থা আরো অবনতি দেখা দিয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।
এ ব্যাপারে পল্লী চিকিৎসক মো. শহীদ মিয়া নিকট জানতে চাইলে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওই গ্লুকোজ স্যালাইনসহ ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমার চোখে মুখে ঘুম ঘুম ভাব থাকায় এ ধরণের ভুল হয়েছে। তবে যিনি পুশ করেছেন উনার স্যালাইন মেয়াদ আছে কিনা দেখে পুশ করা উচিত ছিল।





