সারা দেশ

কলাগাও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

  • ''
  • প্রকাশিত ৯ জুলাই, ২০২৪

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কলাগাঁও পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে বালুখেকো একটি চক্র। এই কারনে ছড়া সংলগ্ন বসতবাড়ি,মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে নদীর দুই পাড়ের লোকজন প্রতিবাদ করলেও উল্টো হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন তাদের বালু খেকোরা।

এ ছাড়াও উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়ন মাহারাম-শান্তিপুর নদী থেকে সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে অসাধু বালুখেকো চক্র।

সম্প্রতি সীমান্তের কলাগাও ছড়া ও নদীতে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগে ১২ জনের নামে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া বাল্কহেড, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, বালু-পাথরসহ ৭৫ লাখ টাকার মালামাল জব্দ করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালগঞ্জ থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে সীমান্ত ঘেষা কলাগাঁও, লামাকাটা, ছাড়াগাঁও, লাকমা, বড়ছড়া, বুরুঙ্গাছড়া, বাঁশতলাসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া দিয়ে ওপার থেকে ঢলের সঙ্গে বালু এসে স্তূপে পরিণত হয়েছে। ছড়ার পাশে, বাড়িঘর, বাজার, মসজিদ মাদ্রাসাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ছড়া থেকে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করে অনত্র বিক্রি করছে চক্র। এই এলাকা দিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা কয়লা,চিনি ও মাদক পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালানী চক্র।

স্থানীয় বাসিন্দা জহির মিয়া বলেন,কলাগাঁও ছড়ায় বর্তমানে পানি পরিপূর্ণ হওয়ায় এখন বালু উত্তোলন করার ফলে ছড়ার দুই পাড়ের বাড়িরঘর একটু ঢেউ হলেই ভেঙে যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নৌকা এসে বালু ভরাট করে নিয়ে যাচ্ছে। বালু উত্তোলনের সময়ে জায়গার মালিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

লতিফ মিয়া জানান,হেমন্ত মৌসুমে ছড়ার বালু অপসারণ করলে এখানকার মানুষের অনেক উপকার হতো। তখন আর পাহাড়ি ঢল বাড়িঘরের উপর দিয়ে যেত না। এই এলাকার মাদক,কয়লার চিনির পাচার করছে কলমাকান্দা উপজেলায়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

কলাগাঁও গ্রামের ইসলাম উদ্দিন বলেন,কলাগাঁও নদী থেকে রাতের আঁধারে শত শত নৌকায় বালু ভরাট করে নিয়ে যাচ্ছে বালু খেকো চক্র। গত একমাস ধরে অবাধে বালু নিচ্ছে এ চক্রটি। এছাড়া এই এলাকায় মাদকের চড়াছড়ি উঠতি বয়সী যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালমা পারভীন বলেন,কলাগাঁও ছড়া ও মাহারাম নদী সরকারিভাবে কোনো ইজারা দেয়া হয়নি। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads