পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নজিবপুর গ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও অভিযুক্তকে গভীর রাতে সালিশে বেত্রাঘাত করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর পিতা বাদি হয়ে অভিযুক্ত নিপীড়ণকারী দুই সন্তানের জনক কামাল বেপারী ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে মহিপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ এ ঘটনায় কামাল বেপারীকে গ্রেপ্তার করলেও পলাতক রয়েছে সালিশদার ইউপি সদস্য আবদুস সোবাহান ও তার সহযোগীরা।
গত গত সোমবার বিকালে নজিবপুর গ্রামের প্রতিবেশী কালাম বেপারীর বাসায় টেলিভিশন দেখতে যায় ওই ছাত্রী। এ সময় বাসায় স্ত্রীর অনুপস্থিতে জোড়পূর্বক যৌন হয়রানি করে কালাম।
স্কুল ছাত্রী এ ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানালে তারা ইউপি সদস্য আবদুস সোবাহানের কাছে নালিশ দেন। এ ঘটনার ফয়সালা দিতেই রাতের আঁধারে তার বাড়ির বৈঠকখানায় সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশে ইউপি সদস্য আবদুস সোবাহান, ফুল গাজী, তোতা সরদার, কাসেম ফকির, ব্যবসায়ী সুমন, শাহালম মাঝিসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
সালিশদাররা সালিশে কালামকে এ ঘটনায় দোষীসব্যস্ত করে দশ হাজার টাকা জরিমানা ও দশ ঘা বেত্রাঘাত করেন।
তবে মাদ্রাসা ছাত্রীর মা এ বিচারে খুশি হননি। সালিশ বৈঠকের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গোটা এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে পুলিশ বুধবার কালামকে আটক করে।
এ ব্যাপারে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ণের অভিযোগে ওই ছাত্রীর পিতা মামলা করেছে। এ মামলার প্রধান আসামী কালামকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





