কাউন্সিলরের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে নারীর সর্বনাশ

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ

কাউন্সিলরের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে নারীর সর্বনাশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০২১

স্বামীর কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুবলীগ নেতা ও ডিএনসিসির ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের কাছে অভিযোগ করে ভুক্তভোগী এক নারী। পরে কৌশলে তার বিয়ে ভাঙেন কাউন্সিল মানিক। এরপর তাকে কুপ্রস্তাব দেন ওই কাউন্সিলর। এতে রাজি না হলে দেন বিয়ের প্রস্তাব। আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে সম্পর্ক। এরপর শুরু হয় শারীরিক সম্পর্ক। তবে একসময় বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন কাউন্সিলর মানিক। স্বামী ও স্বজনদের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে অন্যদের দেয়া দয়ায় জীবনযাপন করছেন ওই ভুক্তভোগী নারী।

সোমবার মেয়রের আতিকুল ইসলামের নিকট ভুক্তভোগী ওই নারী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ শোনার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দিয়েছেন তিনি।

মেয়রের নিকট লিখিত অভিযোগে ওই নারী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক ২০১৪ সালে আমার স্বামীর সাথে  হওয়া ঝগড়ার বিচারের দায়িত্ব নিয়ে আমার স্বামী মিঠুকে ভুল বুঝিয়ে আমাকে তালাক দিতে বাধ্য করে। পরে তৎকালীন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক সে তালাক গ্রহণ না করে আমাকে তার সাথে সংসার করার পরামর্শ দেন। এরপর মানিক জোর করে আমার স্বামীকে মাদক নিরাময় কেন্দ্র রিহ্যাবে ভর্তি করে দেয়। একসময় তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করায়। পরে আমার স্বামীকে বাধ্য করে আমাদের সংসার ভাঙিয়ে দেয়। এরপর সে আমাকে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে তার বাসায় নিয়ে যায়। কাউন্সিলর মানিক ও তার স্ত্রী দ্বিতীয় তলায় থাকতো। এবং আমাকে নিচ তলায় এক রুমে থাকার জন্য জায়গা করে দেয়।  বিনিময়ে তার বাসার সম্পূর্ণ কাজ আমাকে দিয়ে করাত। একদিন তার স্ত্রী বাসার বাইরে বেড়াতে গেলে সে আমার রুমে এসে আমার সাথে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। আমি আপত্তি করলে সে আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দেয়। পরে আমি বিষয়টি মানিকের স্ত্রীকে জানালে তার স্ত্রী তাকেও তালাক দিয়ে দেয়। এরপর সে জোর করে আমাকে তার বাড়িতে রাখে। এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন আমার সাথে সম্পর্ক করে। পরে আবার নিজের স্ত্রীকে মানিয়ে নিয়ে আসলে আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, এরপর থেকে আমি আমার স্বামী ও আমার পরিবারের কাছ থেকে বিতাড়িত হয়ে অসহায়ভাবে জীবনযাপন করেতে করছি। আমার সাথে প্রতারণা করার জন্য আমি বিভিন্ন জায়গায় বিচার চাইলেও কেউ তার বিচার করেনি। থানায় মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। কিছু গণমাধ্যমকর্মীরা আমার সাথে যোগাযোগ করলে আমি তাদের সামনে সত্য তুলে ধরি। এজন্য মিরপুর ২০২০ সালের ১২ মে স্থানীয সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমার ওপর হামলা করায় কাউন্সিলর মানিক। এ ঘটনায় আমি মামলা করতে গেলেও থানা পুলিশ আমার মামলো না নিয়ে উল্টো আমাকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখায়।

তিনি বলেন, আমার দুইটা সন্তান আছে। এ কাউন্সিলরের জন্য আমার সংসার ধংস হয়ে গিয়েছে। আমার সন্তানদের ভবিষ্যতও নষ্ট হয়েছে। আমি চাই যেন এ মানুষরুপি দানবের বিচার হোক। কিন্তু সে কাউন্সিলর হওয়ার কারণে আমি কোথাও বিচারের জন্য আবেদন করতে পারেছি না।

ভূক্তভোগি ওই নারী জানান, প্রথমে সালিশের কথা বলে আমার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে কাউন্সিলর মানিক। পরে কৌশলে সে আমাকে কুপ্রস্তাব দেয়। ওইসময় আমি রাজি না হলে পরে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দেয়। এরপর দীর্ঘদিন আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। প্রায় বিভিন্ন রিসোর্টে আমাকে নিয়ে সময় কাটাতো মানিক।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কাউন্সিলর মানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads