কাজলের বিক্রির খবরে মন খারাপ হুমাইরার

ছবি: বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

কাজলের বিক্রির খবরে মন খারাপ হুমাইরার

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ জুলাই, ২০২১

কোরবানির ঈদ বাজারে বিক্রি করতে আজ থেকে প্রায় সাত মাস আগে ৩টি গরু ক্রয় করেন মো. হুমায়ন। এরপর সে তার বাড়িতে লালন পালন শুরু করেন। আস্তে আস্তে গরু ৩টি বড় হতে থাকে। এরই মধ্যে কুচকুচে কালো একটি গরুকে তার মেয়ে হুমাইরার (৮) এরকাছে খুবই প্রিয় হয়ে উঠে। কালো হওয়ায় আদর করে তার নাম রেখেছে সে কাজল। হুমায়ুনের এক ছেলে ১ মেয়ে রয়েছে। মেয়েটি বড়। গরু ক্রয় করে আনার পর থেকে সকাল বিকাল এই কাজল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সে।

কিন্ত সামনে আসছে কোরবানির ঈদ। ইতিমধ্যে গরু ৩টি বিক্রি করতে হুমায়ুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসকুকে ছবি আপলোড করে সে। গরু ৩টির ছবি দেখে অনেকেই কিনতে তার বাড়িতে আসছেন গরু দেখতে । চলছে গরুর দরদামও। এদিকে গরু বিক্রির বিষয়টি সে বুঝতে পেরে তার মন ভীষণ খারাপ হয়ে আছে। কাজলকে বিক্রি না করতে তার বাবাকে সে বার বার বলছেন।

কাজলের মালিক বাড়ি ব্রাহ্মবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায়। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গরুটি বিক্রি করতে মালিক হুযায়ুন চেষ্টা করছেন।

তার ঘরে থাকা ৩টি গরু বেশ বড়। এর মধ্যে কুচকুচে কালো কাজল নামের গরুটি সুঠাম শরীর, আকার ও বেশ বড়। প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় করছে মানুষ। ঈদ আসন্ন, তাই যত দ্রুত সম্ভব গরুটিকে বিক্রি করতে চান । তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি গরু নিয়ে অনেকটাই যেন বিপাকে পড়েছেন ।

হুমায়ুন বলেন, তিনি তারাগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশ প্রহরীর দায়িত্বে রয়েছেন। করোনার কারণে সারা দেশের ন্যায় স্কুল বন্ধ থাকায় অসবর সময় কাটাতে গত প্রায় ৭ মাস আগে ১লাখ ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে ৩ টি গরু ক্রয় করেন। এরপর বাড়ির সাবাই পরিবারের সদস্যের মতোই লালন-পালন শুরু করে। কাজলকে বাড়তি নজর দেন হুমাইরার । তার বাবার সাথে সাতে নিয়মিত খাবার দিতো সে। গরুটির কাছে সে সব সময় বসে থাকে।

তিনি বলেন এই গরুটি গরম সহ্য করতে না পারায় গোয়ালঘরে লাগানো হয়েছে বৈদ্যুতিক ফ্যান। বেশী ভাগ সময় গোয়ালঘরে রাখতে হয় কালজসহ অন্যান্য গরুকেও। হুমায়ুন বলেন, এই গরুটির পাশপাশি অন্যান্য গরুগুলোকে অতি যত্ন সহকারে লালন পালন করছেন তিনি। সকাল বিকাল রাতে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত যত্ন। আরো বলেন, কোন প্রকার ক্ষতিকর ট্যাবলেট ও ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খড়, তাজা ঘাস,খৈল ভুষি,চালের কুড়া,ভুট্রা,ভাতসহ পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে গরুটিকে লালন পালন করা হচ্ছে।

তাছাড়া প্রতিদিন গোয়ালঘর থেকে বের করে উঠানে পানিতে সাবান দিয়ে গোসল করানো হয়। তার একমাত্র মেয়ে হুজাইফা তাকে ‘কাজল বলে নামে ডাকে। ডাকলে কান নেড়ে সাড়া দেয়। তিনি বলেন গতকাল ২টি গরু প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার উপর সে বিক্রি করেন । সর্বশেষ কাজলের দরদাম চলছে। কাজল বিক্রি হবে জেনে হুজাইফার মন খুবই খারাপ। তিনি আশা করছেন ঈদের আগেই তার এই কাজল নামের গরুটি ১লাখ ২৫ হাজার টাকার উপর বিক্রি হবে। কোন মানুষ অবসর বসে না থেকে গরু লালন পালন করলে অনেক লাভবান হওয়া যায়।

আখাউড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. কামাল বাশার বলেন, কোরবানির পশু বিক্রি করতে আখাউড়া অনলাইন কোরবানির ‘পশুর হাট নামের ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। খামারি ও গৃহস্থরা নিজ আগ্রহে তাদের গরুর ছবি মোবাইল নাম্বার দিয়ে যুক্ত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads