কালিয়াকৈরে মাস্কের কৃত্রিম সংকট

ফাইল ছবি

সারা দেশ

কালিয়াকৈরে মাস্কের কৃত্রিম সংকট

  • কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৩ মার্চ, ২০২০

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে করোনাভাইরাস আতঙ্কে মাস্কের কৃত্রিম সংকট বিরাজ করছে। এ সুযোগে  কালিয়াকৈরে বেশি দামে মাস্ক বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার, সাহেববাজার, চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লুটে নিচ্ছেন ফার্মেসি ও মাস্ক ব্যবসায়ীরা।এতে আরো হতাশায় পড়েছেন সাধারণ জনগণ।

এলাকাবাসীরা জানান,করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারিভাবে পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআর। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে সাবান বা অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া, ঘরের বাইরে মাস্ক ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে তারা। পরে দেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় টেলিভিশন, পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর পরেই দেশে বিভিন্ন স্থানে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার ধুম পড়ে যায়। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার কিনতে গেলে ক্রেতাদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে শেষ হয়ে গেছে। আবার সুযোগে বুঝে তারা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ক্রেতার কাছে এসব বেশি দামে বিক্রি করছেন। এদিকে কৃত্রিম সংকটের কারণে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার না পেয়ে এবং কয়েকগুন বেশি দাম হওয়ায় আরো হতাশায় পড়েছেন লোকজন। তবে জাতির এ ক্রান্তিকালে অনৈতিকভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মাস্কের দাম বেশি নেয়া আইনত দন্ডনীয় বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।

ক্রেতারা জানান, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে মাস্কসহ বিভিন্ন উপাদান কিনতে যাই। কিন্তু তারা সুযোগ বুঝে কয়েকগুন বেশি দাম নিচ্ছে। আর ফায়দা লুটে নিচ্ছেন একটি চক্র। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

নজরুল ইসলাম নামের এক ফার্মেসী মালিক জানান, করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে ডিলাররা আমাদের এসব উপাদান কম দিতেছে। বাংলাদেশে যখন করোনাভাইরাস দেখা দিয়েছে তখন থেকে এ উপজেলায় মাস্ক নেই।

কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা ডা. প্রবীর কুমার সরকার বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। সর্তক থাকতে হবে। তারপরও আমাদের পক্ষ থেকে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সবার মাস্ক ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন জানান, করোনা ভাইরাস নিয়ে যেন আতঙ্ক না ছাড়ায় সেজন্য সরকার সতর্ক করেছে। এছাড়া মাস্কসহ বিভিন্ন উপাদান নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি এবং পর্যপ্ত পরিমানে রাখতে ফার্মিসীগুলোকে বলা হয়েছে। তবে  কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বেশি নিলে অভিযান পরিচালনা চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads