আবু হাসান শেখ, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান শুন্য পদে উপ—নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে পাল্টাপাল্টি দু’টি বর্ধিত সভা করা হয়েছে। বুধবার বিকালে চাঁদখানার বুড়িরহাটে একটি, অন্যদিকে রাতে একই ইউনিয়নের চন্ডিরমন্ডব বাজার সংলগ্ন এলাকায় অপর সভাটি করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় গত ৯ এপ্রিল চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শূন্য পদে উপ—নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ২৭ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ, মনোনয়ন বাছাই ৩০ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মে এবং ভোটগ্রহণ ২৫ মে অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষণার পরেই চাঁদখানা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নের জন্য দৌড় ঝাপ শুরু করে দেয়।
এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শূন্য পদে নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে গতকাল বুধবার বিকালে বুড়িরহাটে একটি বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান, চাঁদখানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ’র সভাপতি মিজানুর রহমান দুলাল, সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায়সহ আরো অনেকে। এ সভায় সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ৮ জনের নাম উঠে আসে। এরা হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আঃ বারেক, উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক সফি কামাল রিয়াদ, আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল আলম, চাঁদখানা ইউপি আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, আওয়ামী নেতা ধনঞ্জয় রায় সিবু, আওয়ামী নেতা নাজিমউদ্দিন আলম সবুজ, কৃষক লীগ’র মোস্তাফিজুর রহমান যাদু ও কৃষক লীগ’র লেলিন।
অপর দিকে রাতে চাঁদখানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আয়োজনে একই ইউনিয়নের চন্ডিরমন্ডব বাজার এলাকায় অপর বর্ধিত সভাটি হয়। চাঁদখানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান দুলালের সভাপতিত্বে এ সভাতেও প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক। আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদখানা ইউপি আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, খাইরুল আলম, ধনঞ্জয় কুমার রায় সিবু, শিল্পি রানী প্রমুখ। এ সভায় সম্ভাব্য ৪ জন প্রার্থীর নাম উঠে আসে। এরা হলেন আওয়ামী নেতা খায়রুল আলম, চাঁদখানা ইউপি আওয়াম লীগ’র সাধারণ সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, আওয়ামী নেতা ধনঞ্জয় রায় সিবু ও আওয়ামী নেতা নাজিমউদ্দিন আলম সবুজ।
সভা দু’টির প্রধান অতিথি জেলা আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মমতাজুল হক তার বক্তব্যে বলেন— বর্ধিত সভা মানে আপনাদের মতামতের উপর প্রার্থীর একটি তালিকা করা। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও উপজেলা আওয়াম লীগ’র সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদ্বয় স্বাক্ষর করে একটি সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা জেলা কমিটির কাছে পাঠাবে। জেলা কমিটি স্বাক্ষর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সে তালিকাটি কেন্দ্রে পাঠাবে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের উপর ভিত্তি করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন যোগ্য প্রার্থীকে নৌকা মার্কা দিবে। ৮ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা থেকে যাকেই নেত্রী মনোনয়ন দিবে, আপনারা সেই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে স্মাট ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে উন্নয়নে কাজ করবেন। যে প্রার্থীই নৌকা প্রতিক পাবে, তাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার আহ্বানও জানান তিনি।
উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন বাবুল এ প্রতিবেদকে জানান-বুড়িরহাট এলাকায় বর্ধিত সভার মাধ্যমে ৮ জন প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে। আমরা এ তালিকা পাঠিয়ে দিবো। কেন্দ্র নির্বাচন করবে কে নৌকা প্রতিক পাবে। দু’টি বর্ধিত সভার বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান-আমরা বুড়িরহাটে বিকালে বর্ধিত সভা করেছি। প্রধান অতিথিকে তারা হয়তোবা দাওয়াত দিয়েছে। তাই তিনি বর্ধিত সভা শেষে সেখানে গিয়েছেন। তবে সেটি বর্ধিত সভা নয় বলে তিনি দাবী করেছেন।
চাঁদখানা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ’র সভাপতি মিজানুর রহমান দুলাল চন্ডির মন্ডব বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত সভাটি বর্ধিত সভা দাবি করে জানান— আমরা এ সভায় ৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পেয়েছি। এ তালিকা জেলায় পাঠিয়ে দিবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। ইউনিয়ন কমিটির আয়োজনে বর্ধিত সভা হওয়ার কথা। তাই আমরা বর্ধিত সভা করেছি।





