কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উপেক্ষিত নারী কাউন্সিলররা

সংগৃহীত ছবি

সারা দেশ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে উপেক্ষিত নারী কাউন্সিলররা

  • খায়রুল আহসান মানিক, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের ৯ নারী কাউন্সিলর বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তারা দাবি করেছেন। তারা বলেন, নারী কাউন্সিলররা কাজ করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নারী প্রতিনিধিরা জনগণের সেবা দিতে পারছেন না। নারী প্রতিনিধিরা জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন সনদপত্র দিতে না পারায় তাদের মর্যাদাহানিসহ জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, করপোরেশনের প্রথম পরিষদের পাঁচ বছর নারী কাউন্সিলররা সবধরনের সনদপত্র প্রদান করতে পারলেও ২য় মেয়াদে নির্বাচিত নারী কাউন্সিলরদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্র সীমিত করে ফেলা হয়। ৮নং ওয়ার্ডের একজন সেবাপ্রত্যাশী কামরুন্নাহার বলেন, জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে মহিলা কাউন্সিলরের কাছ থেকে ফিরে এসেছি। তারা নাকি জন্ম নিবন্ধন করতে পারে না। তাহলে তাদের ভোট দিয়ে কি লাভ? সাধারণ ওয়ার্ড ১৩,১৪,১৫ সংরক্ষিত ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরজাহান আলম পুতুল বলেন, আমাদেরকে জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন করার দায়িত্ব না দেয়ায় জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। জনগণের ভোটের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষে প্রাপ্য অধিকারটুকু প্রতিষ্ঠিত করার দাবি করছি।

সাধারণ ১,২,৩ ও সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাউছারা বেগম সুমি বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রের এমন কোন সেক্টর বর্তমানে নেই যেখানে নারীর পদচারণা নেই। সংরক্ষিত আসনের একজন কাউন্সিলর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে আমাদেরকেও দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

৭, ৮ ও ০৯ সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উম্মে কুলসুম মুনমুন বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে তিনগুণ বেশি ভোটার ও এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েও আজ আমরা অবহেলিত। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ আমরা করতে না পারায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। সাধারণ ৪, ৫, ৬ ও সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাদিয়া নাছরিন বলেন, অন্যান্য কাজের পাশাপশি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করার ক্ষমতা আমাদের দেয়া উচিত। কাজ করতে না পেরে আমরা জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়ছি।

মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নারী জনপ্রতিনিধিরা সম্মনিত হোক সেটা আমিও চাই। যেগুলো আইনে নেই এমন অনেক কাজেও তাদের অগ্রাধিকার দিয়েছি। তবে আইনে না থাকায় তাদের নিবন্ধনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দিলে আমরা তাদের কাজের সুযোগ দিতে পারবো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads