কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যপীঠ নবীন চন্দ্র সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরী (৮০) ও তার স্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরীকে (৬৫) অজ্ঞান অবস্থায় শহরস্থ বাসা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা আশংকাজনক অবস্থায় তাদের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রমতে, কুলাউড়া পৌরশহরের ৩নং ওয়ার্ডের উত্তরবাজারে বাসায় শিক্ষক আব্দুল বাছিত চৌধুরী ও তার স্ত্রী খালেদা বেগম চৌধুরী বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার কাজের জন্য এক মহিলা (৩৫) তাদের বাসায় আশ্রয় নেন।
ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তারা দু’জন দুপুরের খাবারের পর অজ্ঞান হন। সন্ধ্যার পূর্বে প্রতিবেশী এক মহিলা তাদের বাসায় গিয়ে দেখেন দু’জন বিছানায় অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এ সময় ওই আশ্রয় নেয়া মহিলা দ্রুত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রবীণ এ শিক্ষকের অজ্ঞান হওয়ার খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান সজল, ডা. আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ মুকুল, ভাটেরা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, পৌর কাউন্সিলর মনজুরুল আলম চৌধুরী খোকনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
জানা যায়, এই দম্পতির ছেলে-মেয়েরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। প্রতিবেশীরা জানান, ওই মহিলা বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজের কথা বলে শিক্ষকের বাসায় আশ্রয় নেন। শিক্ষকের ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে থাকায় এই সুযোগে লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই বাসায় আশ্রয় নিয়েছে এবং দুপুরে খাবারের সাথে চেতনানাশক ঔষুধ মিশিয়ে খাইয়েছে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাযায়, আব্দুল বাছিত চৌধুরী স্যারের প্রেসার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক। সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাবেদ জিল্লুর বারীর তত্ত্বাবধানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
কুলাউড়া থানার (ওসি) তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, শুনেছি ওই মহিলা পেশাদার প্রতারক। তার সাথে আরো কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁদেরকে চেতনানাশক ঔষুধ বা অন্যকিছু বেশি পরিমাণে খাওয়ানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।





