কুলাউড়ায় বিনোদনের নতুন এক দিগন্ত “আমানীপুর পার্ক”

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

সারা দেশ

কুলাউড়ায় বিনোদনের নতুন এক দিগন্ত 'আমানীপুর পার্ক'

  • কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

নতুন নতুন স্থান, বিনোদন কেন্দ্র, পার্ক, পর্যটন স্পটে ঘরতে ভালো লাগে না এমন মানুষ সমাজে খোঁজে পাওয়া বেশ কষ্ট সাধ্য। ছোট বড় সকলই ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন। নিত্য নতুন জিনিস দেখতে ভালোবাসেন। বাচ্চাদের বেশি আকৃষ্ট করে বিভিন্ন রাইডসহ স্থাপিত হওয়া পার্কগুলো। এসব পার্কগুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়ানোর তালিকায় সবার আগে থাকে সকলের চিন্তায়। তেমনি এক পার্ক হলো “আমানীপুর পার্ক”। গ্রামের শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে গড়ে তোলা পার্কটি ১ জানুয়ারী উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে জেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের কাছে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রতি দিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্ব-পরিবারে আনন্দ বিনোদন উপভোগ করার জন্য “আমানীপুর পার্কে” অসংখ্য মানুষ ভীড় জমান।

পার্কটি বিচার পতি সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন হোসেন ট্রাস্ট্র এর তত্বাবধানে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আমানীপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে।

আমানীপুর পার্কটির প্রধান আকর্ষন “রেল বাগান”। এই রেল বাগানটি দেখে যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে। পার্কে আসা দর্শনার্তীরা কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে রেল বাগানের সুন্দর্য্য উপভোগ করেন। রেল বাগানে রয়েছে কয়েকটি ট্রেণ, স্টেশন, মিনি ঝর্না, রং বেরংয়ের আলোক সজ্জাসহ অসংখ্য জিনিস। প্রত্যেকটি ট্রেন ও অন্যান্য গাড়ী রেল বাগানে অনবরত চলতে থাকার দৃশ্য সবার নজর কাড়ে।

এছাড়া পার্কে স্থাপন করা হয়েছে “জাতীয় সংসদ ভবন”। বিভিন্ন রাইডের মধ্যে রয়েছে জুনিয়র জিপ, মিনি জিপ, বেবি কার, বাম্পার কার, কারাক বোট, প্যাডেল বোট, ট্রয় ট্রেন, নরমাল বোট, সুইমিং পুল, বাচ্চাদের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে খেলার ঘর। চলিত বছরের এপ্রিল মাসে যোগ হবে মিনি মিউজিয়াম।

স্ব-পরিবারে পার্কে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিনা সুলাতানা জানান, উপজেলা পর্যায়ে একেবারে গ্রামের মাঝে এতো সুন্দর সব বয়সের সবার জন্য মনোমুগ্ধকর পরিবেশে পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে। ছুটির দিনে আমাদের মত কর্মজীবিরা এসে আনন্দ বিনোদন উপভোগ করতে পেরে ভালই লাগছে।
সরকারী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমার মেয়েকে নিয়ে আসলাম। মেয়ে খুব উপভোগ করেছে পার্কে সুন্দর্য্য। কারাক বোট ছড়তে পেরে খুবই আনন্দিত সে।

পার্কটি উদ্বোধনের পর থেকে টিকটকার, লাইকি ব্যবহারকারীরা এসে টিকটক ও লাইকি ভিডিও নির্মাণ করতে দেখা যায়। লাইকি ব্যবহারকারী মারজান জানান, এমন সুন্দর পার্ক স্থাপন করায়, আমরা অনেক লাইকার ও টিকটকাররা এসে ভিডিও তৈরি করতে পারি।

টিকটক ব্যবহার কারী নীলপরী জানান, আমি এখানে এসে টিকটকের জন্য ভিডিও থেরি করছি। খুব সুন্দও স্পট। আমার মা, বোন ও ভাইও সাথে এসেছে। তাঁরাও খুব উপভোগ করেছে পার্কে সুন্দর্য্য।

পার্কের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ গিয়াস হোসাইন বলেন, আমাদের পৈতৃক ফেলে রাখার জায়গার উপর শখের বশে রেল বাগান স্থাপন ও থাকার জন্য একটি ঘর করেছিলাম। পরে ভাবলাম কুলাউড়া উপজেলায় সুন্দর মনোরম পরিবেশে বিনোদনের কোনো স্থান নেই। সেই চিন্তু থেকে পার্ক করা। বেশ সাড়াও পেয়েছি । উদ্বোধনের পর থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী আসছেন। ছুটির দিনে ছোট বড় সব শ্রেণির মানুষের পদচারণায় মূখরিত থাকে পার্ক প্রাঙ্গণ। সবাই পার্কে এস খুব ভালো কিছু সময় উপভোগ করছে দেখে ভালো লাগে।

৯ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা আমানীপুর পার্কে কর্মরত আছেন বারো জন কর্মচারী কর্মকর্তা। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads