কুলাউড়ায় সন্তানদের রেখে দুই জা লাপাত্তা!

প্রতীকী ছবি

সারা দেশ

কুলাউড়ায় সন্তানদের রেখে দুই জা লাপাত্তা!

  • কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ৭ মার্চ, ২০২০

কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে একই পরিবারের ২ প্রবাসীর স্ত্রী গত ‍বৃহস্পতিবার রাত থেকে লাপাত্তা রয়েছেন। স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে পরকীয়া প্রেমে মত্ত একই ঘরের দুই প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীরা (দুই জা) স্বামীর ঘর ছেড়ে গভীর রাতে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় ওই প্রবাসীদের মা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিশ্রি গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুস সামাদের ৩ ছেলে। তিনজনই বিবাহিত এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাতের বাসিন্দা। বড় ছেলে ফয়ছল মিয়ার সাথে ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের কবিরাজী গ্রামের বাসিন্দা মহিব আলীর মেয়ে মাহমুদা আক্তার হ্যাপির। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে স্বামী ফয়ছল মিয়ার সাথে মনমালিন্য চলে আসছে। পরে সে অভিমানে বাবার বাড়ি চলে যায়। কিছুদিন পর আবারো মাহমুদা শ্বশুড় বাড়ি ফেরেন।

এদিকে পংকী মিয়ার সাথে ৭ বছর পূর্বে বিয়ে হয় বড়লেখা উপজেলার কেছরীগুল গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়ার মেয়ে মাছুমা আক্তারের সাথে। বিয়ের পর তারও স্বামীর সাথে মনিমালিন্য শুরু হয়। সেই সুযোগে মাহমুদা ও মাছুমা স্বামীর অবর্তমানে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানা যায়, প্রায়ই স্বামী ও শাশুড়ির সাথে ওই গৃহবধুদের দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক কলহ ও মনমালিন্য হতো। অত:পর দুই জা একত্রে শ্বাশুড়ি ও সন্তানদের ঘুমে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সুত্রে আরও জানা যায়, স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের লোক চক্ষুর আড়ালে মাহমুদা ও মাছুমা যোগসাজশ করে দু’জনে বেপরোয়া চলাফেরা করতে থাকেন। এমন সবকর্মকান্ডে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান তাদের শ্বাশুড়ী শরিফা বেগম। তাদের বেপোরোয়া কর্মকান্ড তাদের স্বামীদের কাছে না জানাতে শ্বাশুড়ীকে অনুরোধ করেন। কিন্তু শ্বাশুড়ী বিষয়টি তার ছেলেদের অবগত করলে তারা দু’জনে শ্বাশুড়ীর ওপর ক্ষেপে যান। পরে প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। মাহমুদা ও মাছুমা নিজ বাচ্চাদের ঘুমে রেখে রাতের আধারে পালিয়ে যান। মাহমুদা তার ১০ মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়ে গেলেও বাড়িতে রেখে যান চতুর্থ শ্রেণি ও শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ছেলেকে। নার্সারী শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু সন্তানকে রেখে একত্রে পালান মাছুমা।

শুক্রবার সকালে শিশুদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে শ্বাশুড়ী শরীফা বেগম তাদের কক্ষে যান। ফাহমিদা ও মাছুমার বাবার বাড়িতেও তাদের খোঁজা হয়। কিন্তু গৃহবধুদ্বয় তাদের বাবার বাড়িতে যাননি বলে নিশ্চিত হন। পরে শ্বাশুড়ি শরিফা বেগম প্রবাসী ছেলেদের বিষয়টি অবহিত করে শুক্রবার বিকেলে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads