কুষ্টিয়া সদর থানার চা দোকানি মিঠুন হোসেন হত্যা মামলায় তার ভাতিজা শিমুল হোসেনকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অপর দুই আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অরূপ কুমার গোস্বামী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন
দণ্ডপ্রাপ্ত শিমুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়ার মৃত মওলা মন্ডলের ছেলে।
১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শিমুল হোসেনের স্ত্রী সাথী বেগম (২৫) ও একই এলাকার খয়বার আলী প্রামাণিকের ছেলে সবুজ হোসেন (২৪)। এ মামলায় লিটন হোসেন, মনিরুল ইসলাম ও খয়বার আলী প্রামাণিককে বেকসুর খালাস দেন আদালত।
আদালত সুত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট রাত ৯টায় কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়া এলাকায় চায়ের দোকান থেকে নিজ বাড়ীতে ফিরছিলো মিঠুন হোসেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভাতিজা শিমুল পিছন দিক থেকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতে মিঠুনের নাড়িভুরি বেড়িয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত মিঠুনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১৪ আগস্ট নিহত মিঠুনের স্ত্রী রিনা বেগম ৬ জনের নামোল্লেখসহ কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তশেষে ওই বছরের ২৫ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) এ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী জানান, শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নিহত মিঠুনের ভাতিজা শিমুল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ১ বছর সাজার আদেশ দেন। এছাড়া সাথী বেগম ও সবুজ হোসেনকে ১০ বছরে করে কারাদণ্ড ও প্রত্যেকেকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজার আদেশ দেন। সেই সঙ্গে মামলার বাকী তিন আসামীকে খালাস দেন আদালত।





