কুড়িগ্রামে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির পর ফসলের মাঠ যেন সবুজ পতাকা। যতদূর চোখ যায় শুধু ধু-ধু সবুজ পতাকার রঙ ধারণ করেছে এসব ফসল। খরা-বন্যা কাটিয়ে উঠে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে সবুজ ধান গাছগুলো কৃষকদের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবুজে সমারোহ বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ সোনালী রুপ ধারণ করবে। ৫ দফা ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুষিয়ে উঠবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম খামারবাড়ী সূত্রে জানায়, এ বছর জেলায় এক লাখ ১২ হাজার ৭১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এক লাখ ১৫ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আরও আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের টেংরারভিটা গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, আমি ৯ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছি। সার, কীটনাশক এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকায় জমি সেচ সময়মত করা যাচ্ছে। ধানের বাড়ন্ত খুব ভাল। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে ২০ মণ হারে ১’শ ৮০ মন ধান ঘরে তুলতে পারব।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর কুড়িগ্রামে ৫ দফা বন্যার কারণে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ১২ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। ফলন ভালো দেখছি। আশা করছি সব ঠিক থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে নিত পারব। তবে ধানের দাম যদি ন্যায্য মূল্য না পাই সেক্ষেতে সম্ভব না।
এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। আমরা আমাদের স্বাধ্যমত কৃষককে পরামর্শ জুগিয়ে আসছি। এ বছর ফলনও ভালো দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা আশায় বুক বেধেছে যাতে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ হবে।





