নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। এছাড়া কুয়াকাটা পৌরসভার পক্ষ থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্বীপ এন্টারপ্রাইজকে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে ভেঙ্গে পড়া সেতুর মালামাল অপসারণ করে নতুন করে কাজ শুরু করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি ঘটনার ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দোভাষীপাড়া খালের উপর নির্মিত আরসিসি গার্ডার সেতুটি উদ্ধোধণের আগেই গতকাল রোববার সকালে সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। এতে কুয়াকাটা পৌর শহরের পাঞ্জুপাড়া ও লতাচাপলী ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ২০ মিটার দৈর্ঘ্য ও নয় দশমিক সাত মিটার প্রস্থ্যের গার্ডার সেতুটি নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছিলো দুই কোটি ২৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সেতু নির্মানে নিম্ন মানের নির্মান সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় তদারকির অভাবে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধ্বসে পড়ছে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন।
কুয়াকাটা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী ওমা. মিজানুজ্জামান জানান, ভেঙ্গে পড়া সেতুটিকে প্রকৌশলীদের ভাষায় আর্চ বা খিলান সেতু বলে। সেতুটি ইনভার্টেড বিম উপরের দিকে দেড় ফুট ও নিচের দিকে দেড় ফুট থাকার কথা। কিন্তু ইনভার্টেড বিমের ওপরের দেড় ফুট অংশে ঢালাই দেয়া হয়নি। একইভাবে আর্চেও ঢালাই দেয়া হয়নি। সেতুর এই দুটি অংশে ঢালাই না দেয়ায় সেতুটি ভেঙ্গে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে।
কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জানান, সেতুটি ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারকে ভাঙ্গা সেতুর মালামাল পাঁচদিনের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার দশদিন সময় চেয়েছেন। এ সেতু ভেঙ্গে পড়ার ঘটনায় অনিয়ম প্রমান হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মূল ঠিকাদার কাজ না করে সাব কন্ট্রাকে সেতুটি নির্মান করা হচ্ছে। ওই ঠিকাদারের এ কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকায় সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে। একই সাথে সেতু নির্মাণের সময় ছিলোনা নির্মান কাজে কোন তদারকি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর নিয়মিত তদারতি থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এ কারনে ঠিকাদার ইচ্ছামতো জমাট বাঁধা সিমেন্টসহ নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে সেতুটির ঢালাই সম্পন্ন করায় এ ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমটির প্রধান কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন। কি কারনে সেতুটি ভেঙ্গে পড়েছে সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সেতুর ঢালাইয়ের মালামালের নমুনা সংগ্রগ করা হয়েছে। তাদের তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসনকে হস্তান্তর করা হবে।





