সারা দেশ

কেরানীগঞ্জ থেকে সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী অপহরনের ৫ দিন পর উদ্ধার

অপহরণ ও পাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তার

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ২০ মে, ২০২৩

মোঃ এরশাদ হোসেন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর শান্তিনগর টানপাড়া এলাকার সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া নুসরাত (১৪) স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা হইতে বাহির হয়ে অপহরনের স্বিকার হয়। এ ঘটনায় অপহৃতার বাবা দিদারুল আলম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায়একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার চার দিন পর পুলিশ খাগড়াছড়ির রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত ভিকটিম নুসরাত কে উদ্ধার করেন পুলিশ।
শুক্রবার বেলা ১২ টায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, কেরাণীগঞ্জ মডেল থানাধীন ঘাটারচর শান্তিনগর টানপাড়া সাকিনস্থ দিদারুল আলম তার শশুর মোঃ নাজিম উদ্দিন এর বাড়ীর ৩য় তলায় স্ব পরিবারে বসবাস করে। ইং ১৪/০৫/২০১৩ তারিখ সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় তার বড় মেয়ে নুসরাত (১৪) স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা হইতে বাহির হইয়া একই এলাকার ইনান মিয়ার বাড়ীর সামনে পৌঁছালে দিদারুল আলম এর শশুর বাড়ীর অন্য এক ভাড়াটিয়া ফারজানা ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন বাদীর মেয়েকে ভুল বুঝাইয়া কৌশলে স্কুলের দিকে না গিয়ে অন্য পথে নিয়া যায়। বিষয়টি ইনান মিয়ার বাড়ীর লোকজন দেখে ফেলে। আসামীদ্বয় ও অপহৃতা নুসরাত একই বাড়ীতে বসবাস করতো বিধায় কাহারো কোন সন্দেহ হয় নাই। পরবর্তীতে ঐ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় দিদারুল আলম এর ছোট মেয়ে তাসমিম টিফিনের সময় বাসায় এসে জানায় তার বোন নুসরাত স্কুলে যায়নি। দিদারুল আলম সহ তার পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সকল স্থানে উক্ত মেয়েকে খোঁজাখুজি করার একপর্যায় নিচতলার ভাড়াটিয়ার রুমে খুজতে গেলে দেখে ভাড়াটিয়া ফারজানা ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন বাসায় নাই এবং তাদের কোন মালামালও রুমের মধ্যে নাই। তখন প্রতিবেশী ইনান এর বাড়ীর লোকজনের মাধ্যমে দিদারুল আলম জানতে পারে সকাল ৭ ঘটিকার সময় আসামীদ্বয়ের সহিত তাহার মেয়ে নুসরাতকে এক সঙ্গে বাড়ী হইতে বাহিরে যাইতে দেখেছে। দিদারুল তাৎক্ষনিক আসামী আমিন উদ্দিন এর সহিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করিলে সে এই বিষয়ে কিছু জানেনা বলে জানায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করিয়া দেয়। পরবর্তীতে বিকাল ০৫.৩০ ঘটিকার সময় মোবাইল নম্বর ০১৭০৪-৯৯৬০৭১ হইতে দিদারুল আলম এর ছোট বোন শাহিনা আক্তার এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৬৪-৭৭৭৪৭৫ তে কল করিয়া দিদারুল আলম এর মেয়ে নুসরাতকে ভয়ভীতি দেখাইয়া দিদারুল আলমের বোনের সহিত কথা বলায় যে, “ তাহার মেয়েকে খোঁজাখুজি করলে বা থানা পুলিশ করিলে মেয়ের লাশ পাইবা, মেয়েকে পাইতে হলে আসামীদের ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা দিতে হবে"। এই বলিয়া মোবাইল ফোন কাটিয়া দেয়। এরপর হইতে উক্ত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এরপর দিদারুল আলম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায একটি মামলা দিলে আমি মামলা রুজু করি। মামলা নং ৬০। মামলা রুজুর পর হইতে অপহৃত নুসরাতকে উদ্ধারের জন্য কৌশল অবলম্বন করি।
এ ঘটনায় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান, পিপিএম (বার) স্যারের দিক নির্দেশনায়, কেরাণীগঞ্জ সার্কেল এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ শাহাবুদ্দীন কবীর, বিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস অভিযানিক দল বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় জনৈক আমির হামজার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করিয়া অপহৃত ভিকটিম নুসরাত কে উদ্ধার করেন এবং অপহরণকারী মূল হোতা ফারজানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামী পুলিশ রিমান্ডের আবেদন সহ বিজ্ঞ আদালতে প্রেরনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অপহৃত নুসরাতকে সেখানে কয়েক রেখে দেশের বাহিরে বিক্রি করে দিত।
উল্লেখ্য যে, গ্রেপ্তারকৃত আসামী ফারজানা আক্তার ও তার স্বামী আমিন উদ্দিন পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অপহরন ও মুক্তিপন দাবির একাধিক মামলা রয়েছে। মামলা রুজু হওয়ার পর পুলিশের তরিৎ অভিযান, ভিকটিম উদ্ধার ও আসামী গ্রেপ্তার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়া আসিয়াছে।
গ্রেপ্তারকৃত ফারজানা আক্তার-সুনামগঞ্জ,জেলার দোয়ারা থানার পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামোর -আনোয়ার হোসেন মেয়ে। সে তার স্বামী আমিন উদ্দিনকে নিয়ে ভিকটিম নুসরাতদের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতে। আসামী ফারজানার স্বামী আমিন উদ্দিন পলাতক রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads