সারা দেশ

কোরআন গবেষণা কেন্দ্র,স্কুলও জনকল্যাণমূলক কাজে জমি দান করলেন পদার্থবিদ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৫ মে, ২০২৩

এ,কে,এম হাসানুজ্জামান,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে রেসিডেন্সিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুল, মহিলা ও পুরুষ মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠ, মসজিদ, কবরস্থান ও দৃষ্টিনন্দন লেকের জন্য ১একর ২শতাংশ জমিদান করেছেন পদার্থবিদ প্রফেসর মোঃ তাসলিম উদ্দিন। তিনি উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের চাকতাবাড়ী গ্রামের তাজউদ্দিন সরকারের পুত্র। তিনি নিজের ক্রয়কৃত জমির প্রায় সবটুকু দান করেছেন জনকল্যাণমূলক কাজে।
তিনি ১৯৭৪ সালে দিনাজপুর সরকারি কলেজে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ৯১ তে মন্ত্রণালয়ে ডেপুটেশনে বাংলাদেশ সরকারের সাধারণ শিক্ষা প্রকল্পে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ৯২ তে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ঝিনাইদহ সরকারি কেসি কলেজে যোগদান করেন। ৯৫ তে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ৯৭ এ জগন্নাথ সরকারি কলেজে (বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন। ২০০১ সালে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ডিপার্টমেন্টাল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সেইসময় তিনি সরকারি জগন্নাথ কলেজের শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ভোটে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।২০০৪ সালে যশোর সরকারি এম,এম, কলেজে প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে সরকারি আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহে প্রিন্সিপাল হিসেবে যোগদান করেন। ডিসেম্বর ২০০৬ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) এর পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে যোগদান করেন। তিনি ডিসেম্বর ২০০৭ সালে পূর্ণ অবসরে চলে যান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়— প্রফেসর তসলিম উদ্দিন নিজে শ্রমিকদের সঙ্গে তার দানকৃত জমিতে রাস্তা তৈরির কাজে ব্যস্ত। তিনি জানান — জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মুসলিম সংস্কৃতির উপকরণগুলোর এখানে আমি প্রতিফলন ঘটাতে চেয়েছি। আমার নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করা যতটুকু জামি ছিল প্রায় সব টুকু আমি এই কাজে দান করেছি। আসলে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে যে উদ্দেশ্যে চালু হয়েছিল তা বাস্তবায়ন হয়নি। মাদ্রাসাগুলোতে কোরআনের কোনো গবেষণা হয় না। আমি আন্তর্জাতিকমানের মাদ্রাসা ও আল—কোরআনিক বিশ্ববিদ্যালয় করার স্বপ্ন দেখি।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম,জসিম, আব্দুল জব্বার, আলহাজ্ব মোন্তাজ আলী সহ অনেকে বলেন — আমাদের গ্রামের প্রফেসর তসলিম উদ্দিন মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগা মাঠ , ক্যাডেট মাদ্রাসা সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান করার যে উদ্দোগ গ্রহন করেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এখানে এসব প্রতিষ্ঠান নির্মান হলে অত্র এলাকার ছোট ছোট ছেলে মেয়ে ও কিশোর কিশোরীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে , আমাদের ছেলেমেয়ের দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কষ্ট করে পড়াশোনা করার দুঃখ লাঘব হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads