জাতীয়

ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ শতাংশ শ্রমিক

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ৬ জুন, ২০২১

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের কর্মক্ষেত্রে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। না আছে কাজের সঠিক মূল্যায়ন, না আছে নিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আট ঘণ্টা শ্রম, আট ঘণ্টা বিনোদন এবং আট ঘণ্টা বিশ্রামের দাবিতে ১৩৫ বছর আন্দোলন করেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি শ্রমিকদের এসব অধিকার। এর মধ্যে করোনা মহামারীতে দুই দফার লকডাউনের কারণে দেশের কর্মক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতে শ্রমজীবীদের কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দূর করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক গবেষণায় বলা হয়, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে মে ২০২১ পর্যন্ত করোনা মহামারীতে বৈশ্বিক কর্মঘণ্টা কমেছে প্রায় সাড়ে ১০ শাতাংশ। যদিও শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাটাবেস না থাকায় কী পরিমাণ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা নির্ণয় করা কঠিন। তবে এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট, নির্মাণ ক্ষেত্র, পরিবহনসহ দেশের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৭০ ভাগ শ্রমজীবী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

গবেষণায় বলা হয়, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ রেস্টুরন্ট কর্মী, ৯০ শতাংশ নির্মাণ শ্রমিক, ৯০ শতাংশ পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ শতাংশ বন্দর শ্রমিক, ৫৬ শতাংশ তৈরি পোশাক শ্রমিক এবং ৩১ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীরা রয়েছেন। তা ছাড়া অন্যন্য শ্রমখাতেও ৫০-৭০ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বিলস-এর শ্রমিকের সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক বিভাগের উপ-পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, আইএলও’র তথ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯ এর কারণে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে মে ২০২১ সময়কালে বৈশ্বিক কর্মঘণ্টা কমেছে প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ। বিশ্বের ৩০৫ মিলিয়নের অধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের মোট শ্রম শক্তির প্রায় ৩-৫ শতাংশ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। এর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। কারণ শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাটাবেস না থাকায় কি পরিমাণ শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তা নির্ণয় করা কঠিন। শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার যথেষ্ট ঘাটতি থাকায় শ্রমিকদের অসহায়ত্ব অনেকাংশেই বেড়েছে।

বিলস্ যুগ্ম মহাসচিব ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ১৮৮৬ সালের মে মাস থেকে বিশ্বব্যাপী যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৩৫ বছরেও প্রতিষ্ঠিত হয় নি। শ্রমিকদের সুরক্ষাসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে রেশনিং ব্যবস্থা এবং চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

বিলস্ মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়েছে। এরা কষ্টে আছে এবং তারা তাদের পরিবার নিয়ে শঙ্কিত। সরকারি কর্মচারী ছাড়া বেসরকারি শ্রমিকরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। এমন সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।

আইএলও সাউথ এশিয়ার ডিসেন্ট ওয়ার্ক টেকনিক্যাল টিমের ওয়ার্কার্স অ্যাক্টিভিস্ট সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, শ্রমজীবী মানুষদের কর্মহীন না করে সরকারের উদ্যোগে তাদের কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে তাই প্রয়োজনে তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রদান করে কাজে লাগাতে হবে। অনেক সময় শ্রমিকরা করোনাভীতি উপেক্ষা করে কাজ করলেও মালিকরা তাদের মজুরি দিতে বিলম্ব করে। সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।

শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা যেন চাকরি না হারায় এবং বেতন বোনাস যেন ঠিকমত পায় সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারের একার পক্ষে দেশের বিশাল শ্রবজীবী মানুষদের দায়িত্ব নেয়ার সক্ষমতা নেই। তাই শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads