খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে কোটি দরিদ্র

ফাইল ছবি

জাতীয়

খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে কোটি দরিদ্র

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

করোনায় দেশের কর্মসংস্থানের ওপর বেশ প্রভাব পড়েছে। এতে ক্রমান্বায়ে বাড়ছে দরিদ্রের সংখ্যা। আর দেশের নাগরিকদের আয়ভিত্তিক সঠিক ডাটাবেজ নেই। নেই হতদরিদ্র মানুষের পূর্ণাঙ্গ হিসাব। তবে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৫ থেকে ৪৩ শতাংশে উঠেছে। সঠিক ডাটাবেজ না থাকায় নিম্ন আয়ের বেশির ভাগ মানুষ সরকারি, বেসরকারি সহায়তার আওয়তায় আসে না। ফলে দ্রব্যমূল্যের চড়া দামে পিষ্ঠ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো।

করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই বাড়তে থাকা পণ্যমূল্য সম্প্রতি দেশের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য সংসার চালানোর খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। টিসিবির ট্রাকের মাধ্যমে সরকার ভর্তুকি মূল্যে যে পণ্য বিক্রি করছে, সেই ট্রাক নির্ধারিত এলাকায় যাওয়ার সময় কম দামে পণ্য কিনতে মানুষের হুড়োহুড়ির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় তৈরি করছে।

এদিকে আসন্ন রমজান মাসে সারা দেশের স্বল্প আয়ের গরিব পরিবারগুলোকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খাদ্য সহায়তার এই কর্মসূচির আওতায় একজন ভোক্তা স্বল্পমূল্যে পাবেন সয়াবিন তেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুরের মতো পণ্য সামগ্রী। প্রায় এক কোটি পরিবারের কাছে এ সহায়তা পৌঁছাতে দেওয়া হবে ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় কমে যাওয়া ও সম্প্রতি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রমজান সামনে রেখে সরকারের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি সারা দেশে ভর্তুকি মূল্যের এসব খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করবে। পুরো কর্মসূচিটি সঠিকভাবে পরিপালন করা হচ্ছে কি না-তা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ নজর রাখবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ কারণে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিটি সফল করতে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিবিড় মনিটরিং করা হবে।

 

এদিকে, সরকারের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কোভিডে যখন দরিদ্র মানুষের আয় কমে গেছে এবং বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে গেছে, তখন এক কোটি মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। তবে, সঠিকভাবে উপকারভোগী যাচাই-বাছাই করাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। স্বল্প আয়ের মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, রমজানে এক থেকে সোয়া কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করার উদ্যোগটি খুবই ভালো। কিন্তু তালিকাটি এমনভাবে করতে হবে যাতে শুধুমাত্র যাদের সহায়তা প্রয়োজন তারাই এখানে আসেন। এ কারণে উপকারভোগী সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। তবে রমজানে সার্বিকভাবে যেন পণ্যমূল্য না বাড়ে, সরকারকে সেদিকেও কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে। নিত্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে ভোক্তাদের যে কষ্ট হচ্ছে, তা লাঘবে নিম্ন আয়ের মানুষদেরকে সরকার সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দেবে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পর যাদেরকে সরকার নগদ টাকা দিয়েছিল, সেই তালিকাই এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কাজে লাগানো হবে। আগামী রোজায় এক কোটি মানুষকে এই সুবিধা দেওয়া হবে। টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে বিপুল পরিমাণ ভোক্তার কাছে তা পৌঁছা সম্ভব হয় না বলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, এটা তো সত্যি কথা যে মানুষের কষ্ট হচ্ছে। আমরা যেটা চেষ্টা করছি, সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে সেটা সাধারণ মানুষকে দেওয়া। আমরা চিন্তা করলাম রমজান মাস উপলক্ষে ৫০ লাখ মানুষকে দেওয়া যায় কী না। সেটা ট্রাকের মাধ্যমে নয়, আগে যেভাবে আড়াই হাজার টাকা দিয়েছিল, দুস্থ লোক যারা তাদের কাছে পৌঁছে দেব। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ৫০ লাখ নয় এক কোটি মানুষকে সেই ব্যবস্থায় আনতে।

কেন সরকার ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বোতলজাত তেল লিটারে ১৬৮ টাকা করে বিক্রির অনুমতি দিল- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তেলের দাম আমরা বাড়িয়েছি। কারণ, ৯০ ভাগ তেল আমরা ইমপোর্ট করি। আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেলের দাম বেড়েছে। কনটেইনার ভাড়া বেড়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যদি আমরা ঠিক না করে দিই তাহলে তো ব্যবসায়ীরা তেল আনবেই না। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমলে ব্যবসায়ীদের চাপ দিয়ে লাভ নেই।

মন্ত্রী জানান, আমদানি করা নিত্যপণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণে ট্যারিফ কমিশন আছে। তারা বসে আন্তর্জাতিক বাজারের ১০ দিন ১৫ দিনের দাম দেখে দেশে যত টাকা দাম হওয়া উচিত, তা ঠিক করে। ঢাকায় পেঁয়াজ যখন ২৫ টাকা হয়েছিল, কৃষিমন্ত্রী আমাকে বললেন, আমরা সব ইমপোর্ট বন্ধ করে দেব, কৃষকরা তো কান্নাকাটি করছে। এটা হচ্ছে সমস্যা। যদি দাম কমে যায় কৃষকরা বলেন কী করব? আবার যখন বেড়ে যায় ভোক্তারা বলেন, দাম বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads